২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাধারায় নতুন কারিকুলাম চালু করবে সরকার। নতুন কারিকুলামে শিক্ষাকে সুখপাঠ্য করে পরীক্ষা কমিয়ে আনা হবে। কমিয়ে আনা হবে পাঠ্যবইয়ের বোঝাও। নতুন কারিকুলামে প্রাথমিকে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নামে দুটি বিষয়ের বই পাবে শিক্ষার্থীরা। মাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি শিক্ষা ও লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষা নামে পৃথক দুটি বিষয় যোগ হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষায় শিক্ষাদান করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে ছাত্রছাত্রীদের তৃতীয় ভাষায় পাঠদান করা হবে পুরোদমে।
তবে তৃতীয় ভাষা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে ২০২৭ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বাংলা বইয়ে ‘তৃতীয় ভাষার গুরুত্ব’ নামে নতুন এক অধ্যায় পড়ানো হবে। ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের পুরোদমে তৃতীয় ভাষায় পাঠ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাষাভাষীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ও বহির্বিশ্বে কর্মক্ষেত্রের সুবিধার্থে এ ভাষাদক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি করছে সরকার। তবে তৃতীয় কোন ভাষায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হবে, এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে আরবি, কোরিয়ান, জাপানিজ, চীনা, ফ্রেঞ্চসহ নানান ভাষায় শিক্ষা দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রেখেছে এনসিটিবি।
বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ওপর ভিত্তি করে ও তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যেসব ভাষা বেশি প্রয়োজনীয় সেগুলো যাচাইবাছাই করে এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। এনসিটিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানান, আরবি ভাষায় প্রাথমিকভাবে পাঠদানের মতো শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলাম শিক্ষার শিক্ষকরা এটি চালিয়ে নিতে পারবেন। আর মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বেশি থাকায় শুরুতে এ ভাষা শিক্ষার কথা বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোরিয়ান, জাপানিজ, চীনা বা অন্য ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হলে দেশের অভ্যন্তরে এসব ভাষা শিক্ষার যেসব ইনস্টিটিউট আছে সেগুলো কাজে লাগানো হবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র আরও জানান, তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় পাঠদানের বিষয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায় থেকেই চালু করার পরামর্শ দেবে এনসিটিবি। কারণ হিসেবে এনসিটিবি সূত্র জানান, নতুন একটি ভাষা শিশুদের পক্ষে আত্মস্থ করা সহজ হবে।
এদিকে গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ‘প্রথাগত শিক্ষাকে পেরিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দমূলক পরিবেশে বিদ্যা অর্জন করবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই আমরা। এজন্য আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হবে। ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে আনন্দময় পরিবেশে শিখবে তাদের জোর করে পড়ানোর প্রয়োজন হবে না।’ তথ্যমতে ২০২৭ সালেও শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হবে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুযায়ী। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রীরা পরিমার্জিত পাঠ্যবই হাতে পাবে। এজন্য পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ চলছে পুরোদমে। ২০২৮ সাল থেকে ছাত্রছাত্রীদের নতুন কারিকুলামে পাঠদান করা হবে।