ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করানোর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিরুদ্ধে।
আজ বৃহস্পতিবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নের আয়নাপুরে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানববন্ধনটি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের দাবিতে আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, মানববন্ধনে পর্যাপ্ত লোক না হওয়ায় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় এবং দাখিল মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীদের এনে দাঁড় করানো হয়।
এর আগে, গত ১৪ জুন ১ নম্বর কাংশা ইউনিয়নের প্রত্যেক অঞ্চল থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ একটি মানববন্ধন করে।
তাদের দাবি ছিল, আয়নাপুর গ্রামে প্রস্তাবিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন বাতিল করে ইউনিয়নের মধ্যস্থলে ভবন নির্মাণের। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
আজকের মানববন্ধন সম্পর্কে ছাত্রনেতা আরেফিন সোহাগ বললেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের যোগসাজশে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করানো হয়।
তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জড়িত শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানান।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনারুল্লাহর দাবি, তিনি চান না পরিষদ ভবন এলাকার শেষ প্রান্তে এক কোনের একটি গ্রামে হোক। তিনি চান ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি মধ্যবর্তী স্থানে হোক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা লুৎফর রহমান লাজুর মতে, ১৪ তারিখ পুরো ইউনিয়নবাসীর পক্ষে মানববন্ধন করা হয়। কিন্তু আজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় এনে মানববন্ধন করিয়েছেন।
আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক প্রথমে দাবি করেন, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন করছিল। শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে পাশেই মানববন্ধনে অংশ নেয়। এটা তিনি জানতেন না।
তবে নাচনমুহুরী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে বললেন, আতাউর চেয়ারম্যান তাকে জানান মানববন্ধনের জন্য লোক দরকার। প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের ভয়ে তিনি তার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সেখানে পাঠিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রথমে বিষয়টি তিনি জানতেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন দেখে আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন।
প্রধান শিক্ষক প্রথমে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলেও, লিখিত জবাবে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নাম উল্লেখ করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যপারে কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।