হযরত শাহ জালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনটি ডেগ সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজার প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে দানবাক্সগুলো স্থাপন করা হয়। নতুন দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা জানান, মাজারের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব ধরনের দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা দানবাক্সে জমা হবে।
এর আগে ১২ জুন সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছিলেন, সিলেটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান হলো হযরত শাহ জালাল (রহ.) এবং হযরত শাহ পরান (রহ.) মাজার। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য মাজারের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, হযরত শাহ জালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.) মাজার সিলেটের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী এসব মাজারে আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের।