Image description

অবশেষে সত্যি হচ্ছে জল্পনা। পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরার ‘অখ্যাত’ রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়াতে (এনসিপিআই) যোগ দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২২ সংসদ সদস্য (এমপি)।

 

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে দিল্লিতে একদিকে এই বিদ্রোহী এমপিরা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি অনুগত দুই এমপি সাগরিকা ঘোষ ও র্কীতি আজাদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি জমা দেন, যাতে বিদ্রোহী এমপির আলাদা সংসদীয় ব্লক বা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

 

ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। কারণ, সংসদে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করতে গেলে নির্দিষ্ট আইনি ও কারিগরি শর্ত পূরণ করতে হয়। বিদ্রোহী এমপিরা যদি তৃণমূলের বাইরে নতুন ব্লক গঠন করতে চান, তাহলে তাদের পরিচয় ও সাংসদ হিসেবে অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে।

 

বিপত্তি এড়াতে শেষবেলায় নজিরবিহীন ও চমকপ্রদ কৌশল নেয় পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ এমপিরা। খাতায়-কলমে তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও, নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কোনো বড় জাতীয় দল নয়, বরং আইনি জটিলতা এড়াতে তারা দলবেঁধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাত্র চার বছরের পুরোনো ত্রিপুরার ‘অখ্যাত’ আঞ্চলিক দল এনসিপিআই-তে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (রোববার) রাজধানী দিল্লিতে এই রাজনৈতিক তৎপরতা এক নজিরবিহীন মাত্রা পায়। বৈঠক শেষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবনে গিয়ে হাজির হন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ এমপিরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে হাজির ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, বাপি হালদার ও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

বৈঠকে ভূপেন্দ্র যাদব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রভাবশালী লোকসভার এমপি নিশিকান্ত দুবে। ফলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া যে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে গিয়েছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই বৈঠক থেকেই এই এনসিপিআই বিকল্প হয়ে উঠে আসে বলে সূত্রের দাবি৷

 

‘অখ্যাত’ দলের শরণাপন্ন কেন বিদ্রোহীরা

 

এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের এক বড়সড় আইনি চাল। জানা গেছে, রবিবার তৃণমূলের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরিকা ঘোষের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, যাতে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ‘নতুন ব্লক’ হিসেবে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া না হয়। প্রয়োজনে তৃণমূল এই বিষয়ে আদালতের দারস্থ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে স্পিকার যদি আইনি জটিলতার কারণে সরাসরি নতুন ব্লকের স্বীকৃতি দিতে দেরি করেন বা অস্বীকার করেন, তবে এমপি পদ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেই চরম আইনি সংকট এড়াতেই তড়িঘড়ি কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের আশ্রয় নিতে এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন বিদ্রোহীরা।

 

এনসিপিআই-তে যুক্ত হওয়ার পরে দল পরিচিত হবে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি’ বা এনসিপি নামে৷ দলটি মূলত, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় কাজ করবে৷ বিদ্রোহী এমপিদের নেতা কাকলি ঘোষ দস্তিদার এনসিপিআইর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএর অংশ হয়ে কাজ করব৷