অতীতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনায় সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়া সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা দেখতে পেয়েছি যে স্বাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র (আইপিপি) খাতের প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিল পরিশোধ হয়নি। একদিকে পুরোনো বকেয়া মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত বিলও দিতে হচ্ছে, যা সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।’
এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা তৈরি পোশাক শিল্পে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের শর্ত দিচ্ছে। বিশ্ববাজারে রপ্তানি ধরে রাখতে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া বিকল্প নেই।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ব্যাটারির ওপর শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ শূন্য করা হয়েছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার মাত্র কয়েক মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে, তাই বড় উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে জনগণ এসব পরিকল্পনার বাস্তব ফল পাবেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সবুজ জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।