Image description

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলামবিরোধী অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটি বিদ্যালয়গুলোতে কোমলমতি শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে সংগীত, চারুকলা, নাট্যকলা ও নৃত্যকলা শেখানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

 

শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানান সংগঠনের সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ।

 

তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের এ উদ্যোগ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনাবোধের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল। দক্ষতা উন্নয়নের অজুহাতে প্রাথমিক স্তরে এসব ইসলামবিরোধী সাংস্কৃতিক উপাদান বাধ্যতামূলক করা মূলত মুসলিম সমাজকে নীতিগতভাবে দুর্বল করে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত।

 

দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের করের অর্থে তাদের সন্তানদের ইসলামবিরোধী নাচ-গান শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান তারা।

 

বাংলাদেশে নাটক, থিয়েটার, নৃত্য ও সংগীত শেখার জন্য পৃথক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকলে সেসব প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যেত।

 

তাদের দাবি, জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া এ ভিনদেশি অপসংস্কৃতিকে দেশের সচেতন জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এ উদ্যোগ জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থি।

তারা বলেন, দেশের বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও ভাষা, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয় শিক্ষাদানের জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার মৌলিক সংকট নিরসনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের চাপ সৃষ্টি করা এবং হাজার হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।

 

অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

 

এ ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার যে কোনো উদ্যোগ দেশের ছাত্রসমাজ ও তৌহিদি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে বলে দাবি তাদের।