Image description

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাতিলের আদেশের পর রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছেন রোগীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে নতুন রোগী ভর্তিও বন্ধ রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে হাসপাতালটির বিভিন্ন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অন্তত ৬৯ জন রোগীর স্থানান্তর নিয়ে তীব্র জটিলতায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ ও স্বজনেরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুপুর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ভর্তি থাকা ৬৯ রোগীর মধ্যে এনআইসিইউতে (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ৫০ জন, আইসিইউ ও এইচডিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা ও উচ্চ নির্ভরতা ইউনিট) ১৩ জন এবং সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া তখন পর্যন্ত মোট ২৪৩ জন হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সংকটাপন্ন এসব রোগীর কোনো ধরনের ক্ষতি না করে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতেই তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি এই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা হবে।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম মুকুল এসব তথ্য জানান।

তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চললেও জনস্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডটি ইতোমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক জানান, রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়ও তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোগীদের অন্য হাসপাতালে রেফার না করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বলেছে আদ্-দ্বীনের আরও কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে এবং রোগীরা চাইলে সেখানে যেতে পারবেন। তবে সরকার রানিং রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করতে বলেনি। তাই বর্তমানে ভর্তি রোগীদের সেবা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের হুট করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে আশঙ্কাজনক নবজাতকদের জন্য থাকা এনআইসিইউ সুবিধা শুধুমাত্র আমাদের মগবাজার হাসপাতালেই রয়েছে। আদ্-দ্বীনের অন্য কোনো শাখায় এ ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট না থাকায় এই ৫০ জন নবজাতককে আমাদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এনআইসিইউ সুবিধা রয়েছে। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেভাবেই এই গুরুতর রোগীদের স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নতুন রোগী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল থেকেই নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু আগে থেকে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে হাসপাতালের গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ায় গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) হাসপাতালটির নিবন্ধন (লাইসেন্স) বাতিল করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।