Image description

মার্কিন ইতিহাসবিদ ও খ্যাতিমান মোটিভেশনাল স্পিকার চার্লস এ বিয়ার্ড-এর ভাষায় ‘বাজেট হলো একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে সাজানো মানুষের আকাঙ্ক্ষা’। তিনি আরো সহজ করে বলেছেন, ‘বাজেট মানে কেবল খরচ কমানো নয়; বরং উপার্জিত অর্থকে সঠিক নিয়মে, সঠিক জায়গায় ব্যবহারের একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা’। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত আগামী অর্থবছরের বাজেটে মানুষের আকাঙ্ক্ষা সাজানোর একটা প্রচেষ্টা দেখা গেছে। কিন্তু উপার্জিত অর্থ সঠিক নিয়মে, সঠিক জায়গায় ব্যবহারের দূরদর্শী পরিকল্পনার ছাপ কতটা আছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে? ৯৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ বক্তব্যে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করেন।

নতুন উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য নানাবিধ সুবিধা দিয়ে প্রণীত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বড় হয়েছে। বছরান্তে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটা রেকর্ড। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আকাশছোঁয়া। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে অবাস্তব। সঙ্গে বেড়েছে বাজেট ঘাটতিও। প্রাক্কলিত আয়ের তুলনায় ঘাটতি দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এটাও রেকর্ড। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের গতি-প্রকৃতি বলছে, এ ঘাটতির পরিমাণ শেষ পর্যন্ত তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে ঋণও নিতে হবে অনেক বেশি। বৈদেশিক সূত্র থেকেও বড় দাগে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। উন্নয়ন বাজেটের আকার তিন লাখ কোটি টাকার। বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় সরকার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ দেশের ৫৫তম এবং তার নিজের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করলেন গতকাল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানেরও এটি প্রথম বাজেট। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে গঠিত বিএনপি সরকারেরও প্রথম বাজেট নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ ছিল সব মহলের। আবার চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন পটভূমিতে রাজনৈতিক সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবেও আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে বিএনপি সরকার বাজেট দিয়েছে ১৬টি। এবারেরটি বিএনপি দলীয় সরকারের ১৭তম বাজেট।

সব মিলিয়ে ৫৫ বছরে ২১ জন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন ৫৪টি বাজেট দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৬তম ব্যক্তি হিসেবে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন। দুই দশক আগে ২০০৬ সালের জুনে সর্বশেষ বাজেট দিতে পেরেছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। তখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। কুড়ি বছরের মাথায় তারই জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের হাল ধরে এক বছরের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরল জাতির সামনে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার স্বল্পকালীন শাসনে নিজের তিনটিসহ মোট ছয়টি বাজেটে যেসব খাতের দিকে মনোযোগ ও গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তার উত্তরসূরি তারেক রহমানের সরকারও প্রথম বাজেটে সেসব দিকে গুরুত্ব ও অধিকতর নজর দিয়েছে। সফল রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের মতোই উৎপাদনমুখী স্বনির্ভর অর্থনীতি, বাণিজ্য উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ, পুঁজি ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করে উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল ক্ষেত্র সৃষ্টির মতো বিষয়গুলোকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। প্রস্তাবিত বাজেটে তার অনেকটা প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা দেখা গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হতে হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি এতে সম্মতি জানিয়ে সই করেন। তারপর ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন বাজেট। গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন। সভায় প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম দিয়েছেন ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা।’ তার বক্তব্যটি ৯টি অধ্যায়ে বিভক্ত। অর্থমন্ত্রী বিকাল তিনটায় বাজেট বক্তৃতা শুরু করে পড়া শেষ করেন রাত আটটার পর। আছর ও মাগরিবের নামাজের সময় বাদে প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা ধরে তিনি বাজেট পড়ে শোনান। পুরো বক্তব্যটি পড়ে শোনান তিনি। এর আগে কয়েকটি বাজেটে সারসংক্ষেপ পড়ার পর রেকর্ডকৃত বক্তব্য শোনানো হয়েছিল।

বক্তব্যের উপসংহারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের কৃষক, শ্রমিক, নারী, তরুণ, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রবাসী এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক সংস্কারের সাহসী উদ্যোগ এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষের দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হবে।

অর্থমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্যে বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সুযোগের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, উদ্যোগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে, পরিশ্রমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে যাবে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জনগণের শক্তি, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী সেই শক্তিকে বিকশিত করার মধ্য দিয়েই গণমানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার কথা বলেছেন। সমস্যার সমাধান করে সম্মিলিত প্রয়াসে গণআকাঙ্ক্ষার স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তার বক্তৃতায়। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা করার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, বাজেটের সুফল এবার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্তত আট ধরনের নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে চান জানিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থের টানাপোড়েনের মধ্যেও আগামী অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দেশের অর্থনীতি যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, ঠিক সেই সময় জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণার আলোকে আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফৃতি ৭.৫% নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দশটি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রস্তাব দাঁড় করানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দশটি অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে সবার জন্য সুষম ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন; সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা; সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা; বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি; বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজিকৃত ব্যবসার পরিবেশ গড়ে তোলা; আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদান; আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ; প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ-সহনশীল বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা।

বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি সম্প্রসারণের ঘোষণার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের শুল্ক-করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কর ছাড় দিয়ে বাড়ানো হয়েছে করের আওতা। আবার করদাতা ও উদ্যোক্তাদের ওপর কর বসিয়ে কিংবা করজালের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতার মতো কঠিন ব্যবস্থাও আছে বাজেটে। যেমন ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকতে হবে, খুচরা বিক্রেতাদের মালামাল কেনার সময় উৎসে কর বসানো হয়েছে। এতে সাধারণ করদাতা ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ বাড়বে। করের জাল সম্প্রসারণে এবার নজর দেওয়া হয়েছে বেশি।

তরুণদের তুষ্ট করতে নানা প্রস্তাব

বাজেটে তরুণদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা লক্ষণীয়। তরুণ ও যুব সমাজের আগ্রহের দিকগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, আউটসোর্সিংয়ে সম্পৃক্ত, সৃজনশীল বিভিন্ন উদ্যোগের উৎসাহীসহ প্রযুক্তিখাতে যুক্ত তরুণ-যুবকদের জন্য ব্যাপক করছাড় ও বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতি সম্প্রসারণের জন্য সংগীত, সিনেমার বিভিন্ন সামগ্রীতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।

অর্থায়নের উৎস

আগামী অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানানো হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর থেকে আসবে বাজেটের ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থ। অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে নেওয়া হবে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ থেকে আশা করা হচ্ছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ। কর ব্যতীত প্রাপ্তি দেখানো হয়েছে সাত শতাংশ। এনবিআর বহির্ভূত কর থেকে অর্থ প্রাপ্তির আশা দুই দশমিক ৭ শতাংশ। অবশিষ্ট দশমিক সাত শতাংশ আসবে বৈদেশিক অনুদান থেকে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ও উন্নয়ন মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য। বরাদ্দের ক্ষেত্রে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয় ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এরপরই রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪০ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। ৩৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা পেয়ে বাজেট বরাদ্দে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা পেয়ে সপ্তম অবস্থান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। অষ্টম অবস্থানে আছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ৩০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য। পরের অবস্থান কৃষি মন্ত্রণালয়ের। গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। আর দশম অবস্থানে থাকা কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের বাজেট বরাদ্দ ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

আয়-ব্যয়ের লক্ষ্য ও জিডিপি-মূল্যস্ফীতি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার। গতকাল ঘোষিত নতুন বাজেট এ থেকে এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি অর্থাৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রী এর আগে বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, বাজেট বড় হলে ব্যয় বাড়বে, যা প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। গতকালের প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে এ হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। বাজেটে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ছয় হাজার ১৫০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া যাবে ধরে নিয়ে এবার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা সাত লাখ কোটি টাকার বেশি।

অর্থের সংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ

সাত লাখ কোটি টাকা মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এনবিআরকে একাই আদায় করতে হবে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আদায় করেছিল তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আদায় লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। তবে জুলাই-এপ্রিল সময়ের ১০ মাসে ঘাটতি রয়েছে ৬৯ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। ১০ মাসে আদায় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে ২৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে এনবিআর–বহির্ভূত রাজস্ব আয়। অথচ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ খাতে আট হাজার ১৯২ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে কর ব্যতীত প্রাপ্তি (এনটিআর) থেকে আদায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এনটিআর থেকে আদায় লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

সুদেই যাবে সোয়া লাখ কোটি টাকা

আগামী অর্থবছরে সুদ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থ বিভাগ হিসাব করেছিল আগামী অর্থবছরে সুদ খাতে এক লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের বিপরীতে এ সুদ দিতে হবে। সুদ ব্যয়কে বলা হয় বাধ্যতামূলক ব্যয়। সরকারের পরিচালন ব্যয় বা অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে অন্যতম খাত হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।

ঘাটতি কীভাবে মেটানো হবে

আগামী অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এবার বাজেট ঘাটতি হবে অনুদান বাদ দিয়ে জিডিপির তিন দশমিক ৬ শতাংশ অর্থাৎ দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকার ঠিক করেছে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার এবং বৈদেশিক উৎস থেকে নিট (প্রকৃত) এক লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেবে। সরকার বাস্তবে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিতে চায় এক লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে থাকছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা কম। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও ঠিক করেছে।

যত চ্যালেঞ্জ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব সংগ্রহের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, চলমান কৃচ্ছ্রসাধন নীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারে প্রয়োজনীয় ভর্তুকির চাহিদা মিটিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সঞ্চালন, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি- বিশেষ করে বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্প গ্রহণের হার কমে আসা, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরো ব্যবসাবান্ধব রাখা এবং ঋণ ধারণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ঋণের স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়

কর-প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অটোমেশন জোরদার করা হবে। আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের আওতা বৃদ্ধি ও কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে চায় সরকার। এডিপির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈদেশিক অর্থায়নের ব্যবহার বাড়াতে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সীমিত পর্যায়ে কৃচ্ছ্রসাধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা; তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি বিস্তৃত করা করা হবে। একই সঙ্গে দ্বৈততা পরিহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন।

বাজেটের অগ্রাধিকার

বাজেটের অগ্রাধিকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি উন্নীতকরণের লক্ষ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তার খাত সম্প্রসারণ। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে ঈপ্সিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সঠিক প্রকল্প নির্বাচনি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ ও উপকরণ নিশ্চিত করা।

অন্যান্য পদক্ষেপ

বাজেটে সাধারণ করদাতাদের জন্য কিছু স্বস্তির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী— ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যাপক সম্প্রসারণ করে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। যদিও টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বেড়েছে, তবে মোট বাজেটের অনুপাতে কৃষির হিস্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে।

নতুন বাজেটের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হচ্ছে- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে বা করতে টিন সনদ লাগবে। যেকোনো ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খোলার আগেই কর শনাক্তকরণ সনদ বা টিআইএন নিতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বহু প্রান্তিক মানুষকেও ভোগাবে। বিশেষ করে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহের জন্যে গ্রামের বহু মানুষকে ব্যাংক হিসাব খুলতে হয়, যাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাংকের সঙ্গে হয়তো আর কোনো সম্পর্কই নেই। ট্যাক্স দেওয়ার মতো আয় তো অনেক দূরের কথা।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব নেওয়ার সময় এই টিআইএন সনদ দেখাতে হবে না। আবার নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট যেমন ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব, সরকারি ভাতা সুবিধা নেওয়ার জন্য যত হিসাবসহ পেনশনভোগীদের হিসাবের ক্ষেত্রে টিআইএন দেখানোয় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দেশে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব আছে। তাদের সবাইকে এখন টিন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। মূলত করের জাল বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ব্যাংকে রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক বসানোর সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হচ্ছে। তবে ঋণের টাকার ক্ষেত্রে একবার আবগারি শুল্ক আরোপ হবে।

নতুন বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ীর ওপর করের বোঝা নেমে আসবে। বাজেটে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ওপর দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপ। প্রতি এক হাজার টাকায় দুই টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে।

জানা গেছে, পণ্য কেনার সময় পণ্য সরবরাহকারী বা পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে এই অগ্রিম কর কেটে রেখে সরকারের কোষাগারে জমা দেবেন। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতা আছেন।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে চাল, ডাল, তেল-চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর হিসাবে ১ থেকে ৫ শতাংশ বর্তমানে বলবৎ আছে। এটি কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পণ্যের তালিকায় আছে ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ইত্যাদি।

দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈশ্বিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তুলতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। উচ্চমানের কনটেন্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাণসামগ্রী তরুণদের নাগালের মধ্যে রাখতে কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বাজেট বাস্তবায়িত হলে হৃদরোগের চিকিৎসা খরচ কমতে পারে। যেমন হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে বাজেট প্রস্তাবে। এতে প্রতিটি রিংয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে প্রতিটি লেন্সের দাম পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

কিডনি সমস্যাজনিত রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে দেওয়ার প্রস্তাব আছে বাজেটে। এতে ডায়ালাইসিস বাবদ প্রত্যেক রোগীর খরচ ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে জানা গেছে। কিডনির রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হেমোডায়ালাইসিসের ব্লাড টিউবিং সেট আমদানি সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের আগাম কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এটাও গুরুতর কিডনি রোগীদের জন্যে স্বস্তিদায়ক হবে।

শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির ব্যবহারের জন্য আমদানি করতে হয় এমন ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয় ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব আছে বাজেটে। এ ছাড়া মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মরচুয়ারি আমদানিতে আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ওষুধশিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা গড়ে তুলতে সুবিধা রাখা হয়েছে বাজেটে। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার তালিকায় আরো ৯টি পণ্য যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধায় আরো ১৭টি মৌলিক কাঁচামাল যোগ হচ্ছে।