বিএনপি জোট সরকারের বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি যখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করছেন, তখন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় তেতে উঠতে শুরু করেছে মানুষ।
বিশ্ব ফুটবলে মাতোয়ারা হলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই সরকারের বাজেটটিও অনেক আকাঙ্ক্ষিত। কারণ সংকটের মুখে রাজনৈতিক সরকারের কাছে সব শ্রেণির মানুষের প্রত্যাশা ব্যবসাবান্ধব একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট। তাই তিনি ‘সব কুল’ রক্ষা করতে চেষ্টা করেছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিনি অনেক বেশি খরচ করতে চাইছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধির বাজেটটি উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। যার আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ এবং নতুনভাবে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর এবার বিএনপি জোট নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সাড়ে তিন মাসের মাথায় এই বাজেট। এতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার কঠিন এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বাজেট। তবে বিএনপি সরকারের দেওয়া এটি ১৭তম বাজেট। চলতি বছর তৈরি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি। তবু ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে রেকর্ড পরিমাণ দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। আবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। অবশ্য আরো ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে এডিপিবহির্ভূত। ঘোষিত এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন। সরকারের একমাত্র আয়ের বড় খাত হলো এনবিআর। ২০২৬-২৭ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। কেননা চলতি বছরের বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবু এ এক লক্ষ্যবিলাষী স্বপ্ন দেখছে সরকার।
বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপকে সামলে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা হবে। এ জন্য কর্মসংস্থান, বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়েছে। একদিকে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে অতি ধনীদের সম্পদের ওপর সম্পদ করারোপের চিন্তা থেকে সরে এসেছে। অর্থনীতির নতুন ধারণা সৃজনশীল অর্থনীতি। এই ধারণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষার আওতা ও বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায়’ শিরোনামের এই বাজেটে ঘাটতিও রেকর্ড পরিমাণ। বাজেটজুড়েই স্থবিরতা কাটিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা। তরুণ প্রজন্ম ও নতুন ব্যবসাকে দেওয়া হবে বিশেষ সুবিধা।
রাজস্ব খাতেও বেশ কিছু সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে অর্থমন্ত্রী মনে করেছেন। যেমন—ব্যাংক হিসাব খুললেই লাগবে ভ্যাট নিবন্ধন। এতে বাড়বে রাজস্ব আয়, কমবে ফাঁকি। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংসসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে করছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসবে বলে মনে করে সরকার। গ্রাম থেকে শহর—সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের সমান সুযোগ তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাজেট বরাদ্দ, ব্যয় ও সম্পদ আহরণে এক ধরনের ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত হলেও এর সামগ্রিক অগ্রাধিকার যথাযথ। তবে বাজেটের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন বিনিয়োগ, দুর্বল কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সরকারকে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর মতে, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কর সুবিধা প্রদান ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর ফলে রাজস্ব ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি করভিত্তি সম্প্রসারণ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হলে ব্যাংকঋণের ওপর চাপ আরো বাড়তে পারে।
ড. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, শুধু ভালো নীতি প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; বরং কার্যকর ও দক্ষ বাস্তবায়নই হবে বাজেটের সাফল্যের প্রধান নিয়ামক।
ঘাটতি পূরণে ঋণনির্ভরতা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় অংশ এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া হবে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বজায় রাখতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা গত বছরের তুলনায় ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হলো ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিকে অতিরিক্ত ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে বের করে আনা। তিনি বলেন, উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করবে।
বেসরকারি খাতের জন্য বাজেটে থাকছে
বেসরকারি খাতকে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বাজেটে একাধিক নীতি ও প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনরর্থায়ন তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রেখে বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ল্যাপটপ, সার্ভার ও পিওএস মেশিন আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ব্যবসা সহজীকরণে অনলাইনভিত্তিক ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কম্পানি নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আয়কর ও ভ্যাট অডিটে ঝুঁকিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।
সবুজ শিল্প, সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রিক যানবাহন, লজিস্টিকস, বেসরকারি বন্দর, স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সিং খাতেও বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ এবং ফ্রিল্যান্সারদের ভ্যাট প্রত্যাহার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘এই বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উৎস কর বাস্তবসম্মতভাবে পর্যালোচনা করা গেলে দীর্ঘদিনের হয়রানি কমবে।’
তবে রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাতের জন্য প্রত্যাশিত সহায়তা না থাকায় নির্মাণ ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হবে।
অর্থের উৎস
আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারের প্রধান রাজস্ব সংগ্রহের উৎস হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস শুল্ক থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসবে। এ ছাড়া এনবিআরবহির্ভূত কর থেকে ৫১ হাজার কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত আয় যেমন—সরকারি সেবা ফি, লভ্যাংশ ও অন্যান্য উৎস থেকে আরো ৪০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এসব আয় দিয়ে পুরো ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঘাটতি পূরণে বিদেশি ঋণ ও অনুদান থেকে এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে।
ব্যয়ের খাতভিত্তিক চিত্র
বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হবে পরিচালন খাতে, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও সংশ্লিষ্ট খাতে তিন লাখ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উন্নয়ন ব্যয়ে ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, কর্মসংস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
১০টি প্রধান অগ্রাধিকার
বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা। এর মধ্যে রয়েছে বৈষম্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, আর্থিক খাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, আইসিটি খাত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষ প্রশাসন গঠন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে মোট দুই লাখ ৭৯ হাজার এক কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ২৯.৭৪ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ এক লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া এডিপি, কৃষি, যোগাযোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।’
করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা
মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং করব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বাড়বে।
সৃজনশীল অর্থনীতি
বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ খাতে জিডিপিতে অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পূর্বাচলে ১৬০ একর জমিতে সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব এবং জেলা-উপজেলায় আঞ্চলিক হাব গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ডিজাইন নেটওয়ার্ক, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক মানের ওটিটি স্টুডিও নির্মাণে উদ্যোগ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সৃজনশীল অর্থনীতি শুধু সংস্কৃতি নয়, এটি কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন ক্ষেত্র, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করবে।’ এ খাতে ৩০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি সিএসআর তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পায়ে পায়ে চ্যালেঞ্জ
বাজেট বাস্তবায়নের পথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নই বাজেটের সাফল্য নির্ধারণ করবে। সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণের একটি উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।