বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। এ লক্ষ্যে মস্কোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের মে মাসে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ (সিঙ্ক্রোনাইজেশন) এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যে রাশিয়ার ধারাবাহিক কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন।
জবাবে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ জানান, জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি রোসাটমের কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিট আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলেক্সেই লিখাচেভের আলোচনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় ক্ষুদ্র মডুলার রিয়্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান।
এর জবাবে লিখাচেভ বাংলাদেশকে ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সরবরাহের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়্যাক্টর প্রকৌশল, পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশি পেশাজীবীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্পের সফল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য পারমাণবিক প্রকল্পেও কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
রোসাটম প্রধান এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত ৭ থেকে ৯ জুন রাশিয়া সফর করেন।