Image description

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সম্প্রতি অ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করায় এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

 

একইসঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতালে যে কোনো অ্যাম্বলেন্স প্রবেশের সুযোগ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি, চাঁদাবাজি বন্ধ, ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন, পুলিশ চৌকি ও অভিযোগ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল হাসান সরকার চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে নির্দেশ দেন। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই আদেশে ছয়টি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সরেজমিনে দুটি ভিডিও দেখে ঘটনার তদন্ত করবেন এবং হামলাকারী, চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেটের মূলহোতা ও ভুয়া অ্যাম্বুলেন্স চালকদের চিহ্নিত করবেন।

দোষীদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন ও প্রযোজ্য যেকোন আইনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পাঁচলাইশ থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। চমেক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে চমেক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাড়ার চার্ট তৈরি বা প্রদর্শন কোনোটিই হাসপাতালের কাজ নয়। জনগণের স্বার্থে ব্যবস্থাপনা কমিটি সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাজটি তাৎক্ষণিকভাবে করেছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, চমেকে মাত্র ৫টি অ্যাম্বুলেন্স সরকারি। শতভাগ অ্যাম্বুলেন্সই বেসরকারি মালিকানায়। ভাড়া নির্ধারণ করা সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাজ। যেখানে তারা ২০০ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন সেখানে কমিটির সভাপতি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছেন।

গত রোববার নোয়াখালীর একজন রোগীর স্বজনের কাছে অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দাবি করলে প্রতিবাদ করেন এনসিপির কয়েকজন নেতা। এ ঘটনার জেরে ধরে তাদের ওপর হামলা করে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। পরে সেদিন বিকেলে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।

এরপর মঙ্গলবার চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন মতবিনিময় সভায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেন। এতে নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতালে এনসিপি নেতাদের ওপর অ্যাম্বুলেন্স চালকদের হামলার ঘটনা তদন্ত না করে উল্টো ৩০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে সিন্ডিকেটকে বৈধ করে দিয়েছেন মেয়র।