Image description

বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাজনীতি ও ফুটবলকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেডিয়ামে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিক্ষোভ হলে জাতীয় দল মাঠ ছেড়ে চলে যেতে পারে। এই অবস্থানের কথা ফিফাকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিটি দিয়েছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভার্জেশ৩-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই এই অবস্থান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফিফাকে জানিয়ে দিয়েছি, স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক স্লোগান শোনামাত্র জাতীয় দলের সদস্যরা মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন।’

পতাকার প্রশ্নেও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরান সরকার। দোনিয়ামালি জানান, বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীক ব্যবহার নিয়েও তেহরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ম্যাচ চলাকালে কেবল ইরানের সরকারি পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দিতে ফিফার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় যে বিষয়টিতে আমরা জোর দিয়েছি তা হলো, শুধু সরকারি পতাকাই বৈধ বলে গণ্য হবে — সিংহ ও সূর্যখচিত পুরনো পার্সিয়ান পতাকা নয়। সেই পতাকা দেখা গেলেও দল মাঠ ছেড়ে চলে যাবে।’

আগামী মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর বেলজিয়াম ও মিশরের মুখোমুখি হয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করবে তারা।

প্রথম দুটি ম্যাচ হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে — যে শহরে ইরানের বাইরে অন্যতম বৃহৎ ইরানি কমিউনিটি বাস করে এবং যেখানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার হাজার হাজার বিরোধী রয়েছেন। ফলে সেখানে রাজনৈতিক বিক্ষোভের সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।

কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ শুরু থেকেই নজরদারিতে ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভিসা, ভ্রমণ ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতায় দলের সার্বিক লজিস্টিক্স নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এর মোকাবিলায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের প্রি-টুর্নামেন্টে ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থানান্তর করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো সময় কমিয়ে আনা যায় এবং দলটি শুধু ম্যাচের দিনই মার্কিন মাটিতে পা রাখে।