রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বহির্বিভাগ। সকাল থেকে রোগীর দীর্ঘ সারি।
কয়েক দিন পর রিপোর্ট নিয়ে ফের চিকিৎসকের কাছে গেলে আছিয়া লক্ষ করেন, চিকিৎসকের টেবিলে নির্দিষ্ট একটি ওষুধ কম্পানির লিফলেট ও প্রচারসামগ্রী।
আছিয়া বলেন, ‘সংসার চালাতেই কষ্ট। চিকিৎসার জন্য ধার করেছি।
আছিয়ার এ ঘটনা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার অভিন্ন চিত্র। এক শ্রেণির লোভী চিকিৎসকের কাছে রোগীরা হয়ে উঠছে ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানির আগ্রাসী বিপণনের শিকার।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কম্পানির একটি অংশের যোগসাজশে সর্বস্বান্ত হচ্ছে রোগীরা। কোনো কোনো চিকিৎসক ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের (এমআর) কমিশনের প্রলোভনে পড়ে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ, টেস্ট এমনকি সিজারিয়ান অপারেশনও লিখছেন।
সরকারি নির্দেশনা কাগজেই
অসহায় রোগীদের স্বস্তি দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছর সেপ্টেম্বরে এক পরিপত্র জারি করে। সেই নির্দেশনায় সরকারি হাসপাতালে এমআরদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া সোম ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তাঁদের সাক্ষাতের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর বাইরে হাসপাতালে রোগীদের বিরক্ত করা বা চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্দেশনা অনুসারে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কোনো বেসরকারি সিল ব্যবহার করা যাবে না। শুধু বিজ্ঞাপনবিহীন জেনেরিক নামের সিল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। বেসরকারি ওষুধ কম্পানির সরবরাহ করা ওষুধের তালিকা চিকিৎসকের টেবিলে রাখা যাবে না।
কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নির্দেশনা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি চেম্বার ও হাসপাতালে এমআরদের দাপট কমেনি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে। সরকারি নির্দেশনার পরও রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা, তথ্য সংগ্রহ অবাধে চলছে। চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে দিব্বি অবস্থান নিচ্ছেন তাঁরা এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বোঝা বাড়ছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ উঠেছে।
আইডি কার্ড লুকিয়ে, মাস্ক পরে এমআররা
রাজধানীর বড় বড় সরকারি হাসপাতাল, যেমন—ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ সব প্রতিষ্ঠানে এমআরদের প্রভাব দীর্ঘদিনের। এসব হাসপাতালে গেলেই প্রতিদিন শত শত এমআরের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। গত মে মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬০ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। কিন্তু সেই অভিযানের পরও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
রোগীরা অভিযোগ করেন, এমআররা মাস্ক পরে, আইডি কার্ড লুকিয়ে বা নারী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সহজে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে প্রবেশ করেন। জরুরি বিভাগ ও আন্ত বিভাগে চিকিৎসকদের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তাঁরা চেম্বারের সামনে অবস্থান নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চাইলে এমআরদের ঢুকতে বাধা দিতে পারি, কিন্তু অনেক ডাক্তার তাঁদের সঙ্গে স্বার্থের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁরা কমিশনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কম্পানির ওষুধ লিখে দেন। এটা এখন ওপেন সিক্রেট।’
ওষুধশিল্পে নৈরাজ্য ও অযোগ্যদের দৌরাত্ম্য
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের ওষুধশিল্পের বিপণনব্যবস্থায় বর্তমানে চরম নৈরাজ্য ও পেশাদারির অভাব জেঁকে বসেছে। জীবন রক্ষাকারী একটি সংবেদনশীল খাতের মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) বা মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে এমন অনেককে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকগ্রাউন্ড মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা (আর্টস/কমার্স)। অথচ বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এই শিল্পে অবশ্যই বায়ো-সায়েন্স বা জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের আসা উচিত, যাঁরা ওষুধের রাসায়নিক উপাদান, কার্যকারিতা ও মানবদেহে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা রাখেন। এই মৌলিক জায়গাটিতে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে কম্পানিগুলোর আগ্রাসী কাটতি বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের এক ভয়ংকর দৌরাত্ম্য লক্ষ করা যাচ্ছে। ওষুধের গুণগত মান বা কার্যকারিতা দিয়ে নয়, বরং চিকিৎসকদের দামি গিফট বা উপহারসামগ্রী দেওয়া, নগদ অর্থ কিংবা সপরিবারে লোভনীয় বিদেশ ট্যুরের স্পন্সর করে তাঁরা কৃত্রিমভাবে ওষুধের বিক্রি বাড়ানোর নোংরা প্রতিযোগিতায় মেতেছেন। এই অনৈতিক চর্চার কারণে ওষুধ খাতে সুস্থ ও আন্তর্জাতিক মানের কোনো পেশাদারি তৈরি হচ্ছে না; উল্টো রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়ছে।’
আগে থেকে তৈরি সিলের কারবার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরো উদ্বেগজনক। সেখানে চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে আগে থেকে তৈরি সিল ব্যবহারের ঘটনা ‘ওপেন সিক্রেট’। ৬৫ ও ৫৮ বছর বয়সী দুই নারীর প্রেসক্রিপশনে মোট ৯টি ওষুধের সবগুলোই ছিল সিলমারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, চিকিৎসক ও রিপ্রেজেন্টেটিভদের সখ্য দীর্ঘদিনের। অতীতে চিকিৎসকরা এমআরদের টাকায় প্রমোদ ভ্রমণে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টিআইবির সনাকের এসিজি (স্বাস্থ্য) গ্রুপের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, ‘ওষুধ কম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের হাসপাতালে যখন-তখন প্রবেশ নিয়ে কাজ করেছি। কিছুদিন এটা বন্ধ ছিল। এখন আবার তারা আগের মতোই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যাওয়া-আসা করে।’
নির্ধারিত সময়ের আগেই এমআরদের আনাগোনা
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষিত। নির্ধারিত সময়ের আগেই এমআরদের দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টায় আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের রুমের সামনে তিন-চারজন প্রতিনিধি উপহারসামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। দুপুরে ১০ থেকে ১২ জন জড়ো হয়ে চিকিৎসকদের রুমে প্রবেশ করেন।
মো. ছিদ্দিক, আবু বকর, মরিয়মসহ অনেক রোগী বলেন, আগে যে রকম প্রতিনিধিরা রোগীদের দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করতেন এবং প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করতেন, তা সরকারি নির্দেশনার পরও বন্ধ হয়নি।
কৌশলে এমআরদের উপস্থিতি
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের ভেতরে ঢুকেছেন ওষুধ কম্পানির কয়েকজন রিপ্রেজেন্টেটিভ। তাঁরা কৌশলে কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে আবার বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় জানতে চাইলে নাজমুল হোসেন নামের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, ‘আমি স্যারের কাছে সময় নিতে এসেছিলাম কখন দেখা করব তাই। ওষুধ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। স্যার চেম্বারে যেতে বলেছেন বিকেলে।’
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘নির্দেশনা অমান্য করে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা জরুরি ও আন্ত বিভাগে প্রবেশ করছে। অনেক সময় চিকিৎসকরা রোগী দেখা নিয়ে ব্যস্ততার ফাঁকে তাদের বিষয়ে আর কথা বলতে পারেন না। আমরা এসব বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। অভিযানও করছি। তার পরও রিপ্রেজেন্টেটিভদের এবং দালালদের রোধ করা যাচ্ছে না। রিপ্রেজেন্টেটিভরা বেশির ভাগ সময় আইডি কার্ড লুকিয়ে, মাস্ক পরে অনায়াসে ঢুকে যাচ্ছে। এগুলো রোধে চিকিৎসকদেরও সচেতন হতে হবে।’
নির্দেশনার বাস্তবায়ন শূন্য
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন এমআর আসেন। রোগীদের প্রেসক্রিপশন ঘেঁটে দেখা, ছবি তোলা এখনো অবাধে চলছে। অথচ হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে নির্দেশনার কোনো কপি নেই।
রোগী আকলিমা বিবি বলেন, ‘হাসপাতালে ঢুকলে মনে হয় আগে ওষুধ কম্পানির লোকজনের অনুমতি নিতে হবে। ডাক্তার দেখানোর চেয়ে বেশি সময় যায় টেস্ট আর ওষুধ কেনায়।’
পাহাড়ি জেলায়ও ওএমআরদের অবাধ বিচরণ
বান্দরবান সদর হাসপাতালে এমআরদের অবাধ বিচরণ চলছে। তাঁরা হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাফেরা করেন, রোগীদের বসার জায়গা দখল করেন। রেনাটার প্রতিনিধি মো. শাহেদ ও বেক্সিমকোর একজন প্রতিনিধি চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দিব্বি অবস্থান নেন।
শহরের বনরূপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর অভিযোগ করেন, একটি ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি বারবার চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিনিধি বলে স্বীকার করলেও নিজের নাম প্রকাশ না করেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
দেশজুড়ে রোগী সর্বস্বান্ত
দেশজুড়ে এই চিত্র প্রমাণ করে যে সরকারি হাসপাতালে এমআরদের অনুপ্রবেশ রোগীকেন্দ্রিক সেবাকে বাধাগ্রস্ত করছে। কমিশনের লোভে অপ্রয়েজনীয় টেস্ট ও ওষুধের ব্যবহার চিকিৎসা ব্যয় বাড়াচ্ছে। চিকিৎসক-প্রতিনিধি সখ্য, দালালচক্র এবং দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে সমস্যা জটিল হয়ে উঠেছে। রোগীরা অপয়োজনীয় খরচের বোঝা বহন করছে, যা দারিদ্র্যকে আরো গভীর করছে।
করণীয় কী?
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে প্রমোশন নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ, প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম লেখা বাধ্যতামূলক, এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া, ওষুধ, টেস্ট ও ফি নির্ধারণ এবং নমুনা ও উপহার দিয়ে প্রভাব বিস্তার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী এমআর ও চিকিৎসকদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতাল যেন রোগীর সেবাকেন্দ্র হয়ে ওঠে, বাণিজ্যালয় না হয়ে ওঠে। দেশের ওষুধ খাতের বর্তমান নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির জন্য কম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন কার্যক্রমই দায়ী। বাজারে টিকে থাকা এবং একে অপরের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে কম্পানিগুলো নিজেরাই এখন এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কম্পানিগুলোকে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের হওয়ার উদ্যোগী হতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি হাসপাতালে সিসিটিভি ও ডিজিটাল এন্ট্রি সিস্টেম চালু করতে হবে। মনিটরিং কমিটিকে সক্রিয় ও নিয়মিত রিপোর্টিংয়ের আওতায় আনতে হবে। রোগীদের জন্য অভিযোগ বাক্স ও হটলাইন চালু করতে হবে এবং ওপর থেকে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।’
ভোক্তা অধিকার আইনে চিকিৎসা খাত অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছি এবং আইনটির প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ’
প্রমাণ পেলে কম্পানি ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একজন রোগীর চিকিৎসাপত্র বা প্রেসক্রিপশন দেশের প্রচলিত আইনে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং একটি অত্যন্ত গোপনীয় নথি। রোগী নিজে না চাইলে বা অনুমতি না দিলে এই তথ্য অন্য কারো দেখার কিংবা জানার আইনগত অধিকার নেই। এটি কখনোই প্রকাশ্যে আনা বা এর ছবি তোলা যাবে না। কিন্তু দুঃখজনক, ওষুধ কম্পানির এমআররা নানামুখী অপকৌশলে, এমনকি অনেক সময় জোরজবরদস্তি করে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে ছবি তুলছেন। আমাদের দেশের রোগীরা অত্যন্ত সহজ-সরল হওয়ায় তারা প্রায়ই এই অনৈতিক চাতুর্য বুঝতে পারে না। কম্পানিগুলো রোগীদের এই সরলতারই চরম অপসুযোগ নিচ্ছে।’
সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যদি দেখা যায় কোনো নির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে এ ধরনের আইন লঙ্ঘন ও রোগীদের হয়রানি করা হচ্ছে, তবে সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জনস্বাস্থ্যের অধিকার এবং রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো ধরনের আপস করবে না।’