Image description

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নতুন উদ্যোগ। হোয়াইট হাউস এখন মরিশাসের কাছ থেকে এই কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জটি সরাসরি কিনে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ব্রিটেনকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি মরিশাসের সঙ্গে আলোচনা করে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনার মধ্যে দ্বীপপুঞ্জ কেনার ধারণাও রয়েছে। যদিও এটি এখনো ওয়াশিংটনের প্রধান বিকল্প নয়, তবুও বিষয়টি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নজরে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংকট এবং চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-সামরিক সক্ষমতার কারণে বিশ্বব্যাপী কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ চীনঘনিষ্ঠ মরিশাসের হাতে গেলে সামুদ্রিক গোয়েন্দাগিরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ব্রিটেনের পূর্ববর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরে প্রায় ৯৯ বছরের জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ইজারা নেওয়া হবে। তবে এ চুক্তি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে স্টারমারের পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও পরে ট্রাম্প এর বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পর থেকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই চুক্তিকে “দুর্বলতার পরিচয়” এবং “বড় ধরনের বোকামি” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার এখনও মরিশাসের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতিই অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার মে মাসে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিয়েগো গার্সিয়ার কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে।