ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িত দেশীয় খুনিদের চিহ্নিত করা, পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে মশালমিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এ সময় হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে মশালমিছিলটি শুরু করেন সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। পরে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বিচারের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদের পক্ষ নিয়ে আপনারা যেই ধরনের বয়ান উৎপাদন করার চেষ্টা করছেন, আজকে ক্ষমতায় আছেন, আগামীকাল ক্ষমতায় থাকবেন না, এই কথা ভুলে যাইয়েন না।’
জাবের আরও বলেন, কিছুদিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পররাষ্ট্র পর্যায়ে ভারতের সাথে একটা বৈঠক হয়েছে এবং তারা খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এখন সেই সম্মত হওয়ার সময়সীমা কতটুকু, আমরা জানতে চাই? এইটার সময়সীমা কি কেয়ামত পর্যন্ত নাকি সুনির্দিষ্ট কোনো সময় আছে, এইটা আপনাদের কাছে জানতে চাই।’
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশে বাংলাদেশে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। বিগত সরকারের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, এমন ব্যক্তিরা বা কোনো এজেন্সি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।