বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও দেখা যাবে না নেইমারকে। ডান পায়ের কাফ মাসলের চোট থেকে সেরে ওঠার লক্ষ্যে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দেখা যাবে না ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। তবে দলটির ১০ নম্বর জার্সিধারী নেইমার নিউ জার্সিতেই থেকে যাবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের শারীরিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এই ফরোয়ার্ড।
ডান পায়ের কাফ মাসলে গ্রেড-২ মাত্রার চোটে ভুগছেন নেইমার। ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। সে ম্যাচ খেলার জন্য সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাঁকে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলতেই এখন সব মনোযোগ নেইমারের।
প্রথম দিকে নেইমারের ক্লাব সান্তোস এই চোটকে কেবল ফোলাভাব বা এডিমা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে কোরিতিবার কাছে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচে তিনি এই চোটে পড়েন। ম্যাচটি বদলি সংক্রান্ত একটি ভুলের কারণেও আলোচনায় আসে। মাঠের বাইরে কাফের চিকিৎসা নেওয়ার সময় প্রশাসনিক জটিলতায় নেইমার আর মাঠে ফিরতে পারেননি।
পরে ব্রাজিল জাতীয় দলের মেডিকেল টিমের অধীনে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে চোটের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে। পরীক্ষায় নেইমারের গ্রেড-২ চোট ধরা পড়ে, যা সান্তোসের প্রাথমিক মূল্যায়নের চেয়ে বেশি গুরুতর। গত ২৮ মে জাতীয় দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানান। সে সময় তিনি নেইমারের সুস্থ হতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।
চোটের কারণে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে কোনো ম্যাচ না খেলেই বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছেন নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে, যখন তিনি বাঁ হাঁটুতে গুরুতর চোটে পড়েছিলেন। চোটের কারণে মাঠে নামতে না পারলেও গত রোববার মারাকানায় পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নেইমার। ম্যাচ শেষে দর্শকদের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও উষ্ণ অভ্যর্থনা পান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।