Image description

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় বড় ছেলের ঘরের মেঝের মাটি খুড়ে মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার(৩ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম থেকে ওই লাশ উদ্ধার হয়। নিহত বৃদ্ধা মারুফা বেগম (৬০) উক্ত গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।

 

এঘটনায় নিহতের বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম (৪০) পলাতক রয়েছেন। নিহতের ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম (৩০) জানান, তিনি ঢাকায় পোষাককর্মীর কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার (২৯ মে) জুমার নামাজের পর স্ত্রী নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যান। সেখান থেকে বুধবার বিকালে বাড়িতে ফিরে এসে তার মা, বড় ভাই জুয়েল, ভাবী হাসি বেগম, ভাতিজা গোলাম রব্বানী কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে সে তার বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরের মেঝের মাটিতে ফাটল এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে তাৎক্ষনিক কিশোরীগঞ্জ থানা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মেঝের মাটি খুঁড়ে তার মায়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

 

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাতে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার সামনে বাম দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই দিন আগে মাথার আঘাতে ওই নারীর মৃত্যু হলে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।

 

এদিকে প্রতিবেশিরা জানায়, মারুফা বেগমের ছোট ছেলে লাবিন স্ত্রীসহ ঢাকায় থাকায় তিনি বড় ছেলে জুয়েল, বড় বউমা, নাতিসহ বাড়িতে থাকতেন। গত সোমবার(১ জুন) থেকে হঠাৎ করে মারুফা বেগম ও তার বড় ছেলেকে এলাকায় দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশি বলেন, ঈদের দুইদিন আগে থেকে বড় বউমার সাথে মারুফা বেগমের ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এজন্য তিনি(হাসি বেগম) রাগ করে ছেলে নিয়ে সোমবার দুপুরে বাবার বাড়িতে চলে যায়। সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে মারুফা বেগম ও তার বড় ছেলে জুয়েলকে দেখা যায়নি আর।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তার বড় ভাই জুয়েল ইসলামকে সন্দেহ করে অজ্ঞাত নামা আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েল ইসলামের স্ত্রী হাসি বেগম (৩২) ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৫) থানায় আনা হয়েছে।

 
 

ওসি আরও বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।