Image description

দেশে একের পর এক নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তার মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত রামিসা হত্যা ও পাবনার স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি লেখেন, ‘রামিসা ধর্ষণের রেশ এখনো কাটেনি। গতকাল পাবনায় রিয়া নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেয় তিন ধর্ষক।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘একের পর এক নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে , ঘটনা ঘটার পর ভিক্টিমের বাসা বাড়িতে গিয়ে নেতা-মন্ত্রীরা পপুলিস্ট রাজনীতি করে আসে আর আমরা তা দেখে মনে মনে পুলকিত হই।’

 
 

ডাকসুর এ সদস্য বলেন, ‘নেতা ভিক্টিমের বাসা পর্যন্ত ছুটে গেছেন, আহা কি মহান! এমন নেতা তো লাখে একজন হয়!’

 

‘এ রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ’ উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করে এ ডাকসু সদস্য বলেন, ‘একের পর এক ঘটনা ঘটবে, একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। ল্যাটস কাউন্ট দ্য নম্বর অব রেইপ কেইসেস অ্যান্ড ওয়েট টু সি দ্য নেক্সট!’

উল্লেখ্য, পাবনার পদ্মা নদী থেকে রিয়া খাতুন (১৫) নামে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, রিয়ার সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মো. নাঈমের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২ জুন নাঈমের বাড়িতে গেলে দুজনের মধ্যে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নাঈম রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে নাঈম তার দুই সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে আনে। পরে তারা মরদেহ বস্তাবন্দি করে একটি প্রাইভেটকারে করে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় নাঈমসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গত ১৯ মের ওই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আলোচিত এ মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আগামী ৭ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন।

সাম্প্রতিক এই দুই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, দ্রুত বিচার এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।