জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দুই বছরের মধ্যে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলার এক মাসের মাথায় সরকার বিদুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিলো। এই সরকার আসলে পল্টিবাজের সরকার। সকালে এক কথা বলে, দুপুরে এক কথা বলে, আর রাতে আরেক কথা বলে। জনগণ যাবে কোথায়?
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির লাগামহীন বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিলটি রাজধানীর বাংলামোটরে শুরু হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক শুনেছি একটা ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারকে পুশ করছে মূল্যবৃদ্ধির জন্য। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে সরকার উল্টো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, নির্বাচনের পরেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এই সরকার ‘তারেক রহমানের সরকার, লুটপাটের পাহারাদার’। সরকার ক্ষমতায় আসার পর বলেছিলেন বিদ্যুতের দাম ২ বছরের মধ্যে বৃদ্ধি পাবে না, কিন্তু ৩ মাসের মধ্যেই ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপূর্বে অন্য জ্বালানির দামও বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে বসিয়েছেন যে পূর্বে ঋণখেলাপি ছিলেন। ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যানে বসিয়েছেন এমন একজনকে যিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দুর্নীতির দায়ে পদচ্যুত হয়েছিল। তার মানে সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে ফ্যাসিবাদের সময়ের লুটেরারদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন, জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছেন।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের পকেট ভারি করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসে সেই জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছেন, এই প্রতারণার হিসাব জনগণ নেবে কড়ায়গন্ডায়। জনগণকে বোকা ভাবলে সরকার ভুলের মধ্যে আছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এই সরকার নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে চলেছে। সরকার ভাবছে সে একাই যা খুশি তা করে শাসন করে যাবে। অথচ গণ-অভ্যুত্থানের শক্তি এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট যদি এই সরকারের পেছন থেকে সরে দাঁড়ায় তাহলে এই সরকার ধপাস করে পড়ে যাবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন– এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি, মহানগর উত্তর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর সেক্রেটারি মুহতাসীম ফুয়াদসহ অন্যান্য নেতারা।