অ-ইউরোপীয় অভিবাসীদের জন্য অভিবাসন নিয়মের এক কঠোর চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর ফলে ব্লকের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার অনুমতি মিলবে। এবার ব্লকের সদস্য দেশগুলো অনিয়মিত পথে আসা অভিবাসীদের বহিষ্কারের সংখ্যা বাড়াতে পারবে।
ইইউর মন্ত্রীরা ও দেশগুলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে এই সংস্কারের একটি অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এরপর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পথ প্রশস্ত করেছে।
রিটার্ন হাব কী
ইইউ জানিয়েছে, ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রগুলোতে সেসব প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীকেই রাখা হবে, যাদের আশ্রয়ের প্রতিটি ধাপ শেষ হয়েছে এবং আরও কোনোভাবেই তার বা তাদের ইইউতে থাকার অধিকার নেই।
ইইউর অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, ‘এই চুক্তি প্রমাণ করে অবশেষে নিজেদের (ইউরোপীয়) ঘর গোছাতে পারছি আমরা। নতুন নিয়মে কে ইইউতে আসতে পারে, কে থাকতে পারে এবং কাকে চলে যেতে হবে, এই বিষয়গুলোতে আমাদের হাতে আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে।’
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাদের ফিরতে হবেই এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। যারা তা করবেন না, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে কারাবাসও রয়েছে।
তবে এই নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। এ নিয়মে বিশেষ করে দেশগুলোকে ইইউ সীমানার বাইরে কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে, যেখানে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া ব্যক্তিদের পাঠানো যেতে পারে। এ ছাড়া বহিষ্কারের মুখোমুখি হলে অভিবাসীদের জন্য কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) মার্তা ওয়েলান্ডার বলেছেন, ‘এই চুক্তি সরকারগুলোকে অনিয়মিত অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ক্ষমতা দেবে।’
অধিকার নিয়ে কাজ করা আইআরসি রিটার্ন হাবের পরিকল্পনাকে ‘আইনের কৃষ্ণগহ্বর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার ফলে অনিয়মিত অভিবাসীদের এমন দেশে বহিষ্কৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে, যেখানে তাদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন বা তার চেয়েও নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন তারা।
ইউরোপীয় সরকারগুলো অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। কারণ অভিবাসন নিয়ে জনমত নেতিবাচক হয়ে উঠেছে। মহাদেশজুড়ে একাধিক নির্বাচনে ডানপন্থিদের জয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
অভিবাসীদের আগমনের সংখ্যা খানিকটা কমায় প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ব্রাসেলস।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, বর্তমানে ফেরতের আদেশ পাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশকে নিজেদের মূল দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
সোমবারের চুক্তির আওতায়, অধিকাংশ নতুন নিয়ম আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযোজ্য হবে। তবে কয়েকটি নিয়ম ১২ মাস পরে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো নিয়ে প্রস্তুতির জন্য সময় পাবে।
সমর্থকরা বলছেন, রিটার্ন হাবগুলো বহিষ্কার করা জন্য চূড়ান্ত গন্তব্য বা স্থানান্তর কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এগুলো প্রত্যাবর্তনকে সহজতর করতে পারে এবং মানুষজনকে অভিবাসনে নিরুৎসাহী করে তুলতে পারে।
কিছু দেশ, যেমন অস্ট্রিয়া ও জার্মানি, ইতিমধ্যেই এগুলো স্থাপনের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে। তবে ব্লকের অন্যান্য দেশ, যেমন ফ্রান্স ও স্পেন, রিটার্ন হাবের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউরোপীয় কূটনীতিক জানান, এটা কীভাবে কাজ করবে তা স্পষ্ট নয়। এর ফলে একাধিক মানুষজনকে প্রভাবিত করা যাবে না।
সমালোচকরা একই ধরনের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।
ইইউর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনিয়মিত পথে সীমান্ত অতিক্রম ৪০ শতাংশ কমেছে।
সংস্কারটি কার্যকর হওয়ার আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও সদস্য দেশগুলোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেতে হবে।
সূত্র : ইনফোমাইগ্র্যান্টস