Image description

দেশে আবারো বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে বেড়েছে দাম। নতুন করে দাম বাড়ায় 
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। প্রভাব পড়বে শিল্প বাণিজ্যেও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ আর পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। যা জুন মাস থেকে কার্যকর করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি কিলোওয়াটে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি কিলোওয়াটে ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১শে মে দু’দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্প উৎপাদন ব্যয়, সেচ কার্যক্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও প্রভাব পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ভোক্তাদের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জীবনযাত্রায় কী প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মানবজমিনকে বলেন, দাম বৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানি হয়েছে। আমরা আপত্তি দিয়েছি। আমলে নেয়নি। বিচার পাইনি। বিচারিক কোনো আলোচনা হয়নি। দাম বাড়ার কারণে ব্যয় বেড়ে যাবে। দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে মাশুল ছিল ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি ৭ দশমিক ৫১ পয়সা বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাম বেড়েছে। এর প্রভাব আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলে পড়বে।

বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের হিসাবে, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

নতুন ট্যারিফে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকা ৭৪ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে বিভিন্ন শ্রেণিতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।