চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির নেতাদের ‘গুপ্ত জামায়াত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ। গত শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে তার এই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা।
হারুনুর রশিদ তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, জেলা বিএনপির নামে গতকালকে একটা প্রোগাম দেখলাম। এরা নিঃসন্দেহে বর্তমানে জেলা বিএনপির যারা দায়িত্বে আছে সবকটা গুপ্ত জামায়াতের। আমি পার্টির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো তদন্ত করতে হবে। কারণ গত নির্বাচনের সময় আপনি আমাদেরকে নমিনেশন দিয়েছেন, প্রার্থী হিসেবে আমি, শাহজাহান মিঞা ও আমিনুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আপনার থানার যারা নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিল তারা রাস্তা অবরোধ করে মশাল মিছিল করেছে। অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নাচোল-গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট নিয়ে গঠিত আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য রেল অবরোধও করেছে। আপনার দলের আপনার কমিটি দেওয়া তারা আবার বড় বড় বক্তৃতা দেয়। তারা আবার নিজেদেরকে বিএনপি বলে দাবি করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলবো, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বে যারা ছিল, একজনও কেউ বিএনপির ভোট করে নাই।
তিনি আরও বলেন, একজন রাজশাহী থেকে এসে প্রধান অতিথি হয়ে মঞ্চে বসে উনি আবার বিভিন্ন বক্তৃতা দিচ্ছেন। সুতরাং ছাত্রদল হবে এমন একটি জায়গা যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তোমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। কারও চামচামি করার দরকার নাই, কোনো প্রয়োজন নেই। এখন আমাদের রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার সময় হয়ে আসছে। কিন্ত আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম একটা আদর্শ ও নীতি, নৈতিকতা নিয়ে বেড়ে উঠুক। নেতৃত্ব দিয়ে তারা আমাদের মুখ উজ্জল করুক- এটাই আমরা চাই। ছাত্রদল এমন একটি সংগঠক হিসেবে গড়ে উঠুক।
এ বিষয়ে জানতে হারুনুর রশিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যা বক্তব্য দিয়েছি তাই আমার মন্তব্য। এর বেশি আর কিছু বলতে চাই না, দরকারও নেই।
হারুনুর রশিদের এই বক্তব্যবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক চাইনিজ।
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, হারুন সাহেব যেটা বলেছে সেটা তার ব্যক্তিগত কথা। জেলা বিএনপি দিয়েছেন তারেক রহমান, তাই না। ২০২১ সালে তারেক রহমান জেলা বিএনপির কমিটি দিয়েছেন। ২০২১ সালে জেলা বিএনপির কমিটি দেওয়ার পরে জেলা বিএনপি প্রকাশ্যে কাজ করেছে। আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। অতএব ও গুপ্ত বললেই তো গুপ্ত হয়ে যাবে না। বরং সেই গুপ্ত। কারণ সংসদে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার গুণকীর্তন করে খুশি করার জন্য। এই গুপ্ত ০৫ আগষ্টের পর নিজেকে জাহির করার জন্য চেষ্টা করছে। এছাড়া গুপ্ত হওয়ার কারণে বিএনপির লোকজন ও সাধারণ ভোটার তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ৬৪ হাজার ভোটে সে ফেল করেছে। ভোটে ফেল করার পর নিজের মতো বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছে। তার এই বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আপনাদের ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবো ইনশাআল্লাহ।
জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওবায়েদ পাঠান বলেন, জেলা বিএনপি কখনোই গুপ্ত সংগঠন করে না, শক্তভাবে তারা দল করে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করেই তারা দল করে। গুপ্ত সংগঠন হারুনুর রশিদ সাহেবই করেন। বিগত দিনে নির্বাচনগুলোতে গুপ্ত আওয়ামী লীগ, গুপ্ত জামায়াত, গুপ্ত করে আতাত করে চলেছে। জামায়াতের আতাউর রহমান সাহেবকে তিনি পৌরসভার মেয়র কান্ডিডেট দিয়েছিলেন, সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেত্রী নাসরিনকে কান্ডিডেট করেছিলেন, সামিউল হক লিটন গুপ্ত (জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি), নিজের মামা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দিয়েছিলেন গুপ্ত এবং গুপ্ত করে উনার মামাকেই পৌরসভার মেয়র বানিয়েছিলেন। তাই গুপ্ত রাজনীতি কখনোই জেলা বিএনপি করে না। গুপ্ত রাজনীতি উনি করে তো এজন্য উনার কাছে খালি গুপ্ত কথাটা মনে পড়ে বেশি বেশি। এজন্য আমি হারুন ভাইকে বলবো- আপনি গুপ্ত সংগঠন আর নাম নিয়েন না। কারণ এই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষ আপনারা তিনজন যে এমপি কান্ডিডেট আছেন তাদেরকে বর্জন করেছে। আশা করি আপনারা আমার কথা শুনার পরে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে দল থেকে অব্যাহতি নেবেন।