সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ‘আমরা স্বাভাবিক অবস্থাতে নেই। অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে আছি।
এই অস্বাভাবিক অবস্থাগুলো এক দিনে তৈরি হয় না। ২০১৪ সাল থেকেই ধীরে ধীরে এটা বাড়তে বাড়তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জমানাতে এটা একটা প্রলয়ঙ্করী ঘটনাতে পরিণত হয়। ওই সময়টিতে মানুষের মনে যে আতঙ্ক ছিল, ভয় ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে কিচেন ক্যাবিনেট এখন সামনের সারিতে চলে আসছে।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘সবাই বলাবলি করছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে একসময় একটা পাগলা রাজা ছিল, গণেশ।
আপনারা যারা ইতিহাসের ছাত্র তারা পড়ে দেখবেন, এর মতো নির্মম, নিষ্ঠুর, প্রতারক, ভণ্ড, মীরজাফর—এ রকম কোনো শাসক বাংলাদেশে আসেনি। সে তার নিজের ছেলেকে ভয়ে একসময় হিন্দু থেকে মুসলমান বানিয়ে ফেলল নিজের পিঠ বাঁচানোর জন্য। রাষ্ট্রক্ষমতা সেই ছেলের বরাবর হস্তান্তর করল, ছেলে সিংহাসনে বসল। আবার কিছুদিন পরে সেই ছেলেটিকে গোবর খাইয়ে তাকে ফের হিন্দু বানাল।
সে (গণেশ) আবার সিংহাসনে বসল, আবার অত্যাচার-জুলুম শুরু করল।’
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘এই গণেশের রাজত্বের বাইরে আরো একজন রাজা ছিলেন, মোজাফফর শাহ। তিনি সোনারগাঁয়ের ইলিয়াস শাহি বংশের এক রাজাকে হত্যা করেন। সেই প্রাসাদে যারা দারোয়ান ছিল, এই দারোয়ান গ্রুপদের সুদূর আফ্রিকা থেকে এনেছিলেন ইলিয়াস শাহি বংশের রাজারা। এই দারোয়ানদের একজন বস বা কমান্ডারের নাম ছিল মোজাফফর শাহ।
এই মোজাফফর শাহ প্রায় সারে তিন বছর এই বাংলার সিংহাসনে— সোনারগাঁকেন্দ্রিক যে সিংহাসন, সেখানে তিনি শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর চেয়ে জুলুম-অত্যাচার আর খারাপ ইতিহাসে গণেশের পরে আর কোনো নজির নেই।’
‘এভাবে গণেশ, মোজাফফর শাহ—তাদের শাসন থেকে শুরু করে আজকের দিন পর্যন্ত বাংলায় যত শাসন চলেছে, সবাই বলছে এসব শাসনের মধ্যে জঘন্য শাসন ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসন।’