Image description

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এখন থেকে ট্রাফিক মামলার জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে কোনও ধরনের সেবা পাবেন না। শুধু তাই নয়, জরিমানা বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদেশযাত্রা সীমিতের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। 

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলছে, ঈদুল আজহার ছুটির পর এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর ১০৫টি ট্রাফিক সিগন্যালে এসব ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে। ক্যামেরাগুলো ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করছে এবং যাচাই–বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ট্রাফিক মামলা হলেও অনেক চালক ও মালিক জরিমানার টাকা পরিশোধে অনীহা দেখান। এর ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্র রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনও নির্বিঘ্নে সড়কে চলাচল করছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ট্রাফিক জরিমানার অর্থ নগদ কিংবা অনলাইনে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পাঠানো চিঠি বা মুঠোফোন বার্তায় মামলার তথ্য ও জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ থাকে। এছাড়া ‘উপায়’ সার্ভিস কিংবা বিআরটিএর সেবা অ্যাপ ব্যবহার করেও জরিমানা পরিশোধ করা যায়। অনেকে সরাসরি ব্যাংক বা নির্ধারিত ট্রাফিক অফিসে গিয়ে জরিমানার অর্থ জমা দিয়ে কাগজপত্র ছাড়িয়ে নেন। তবে, এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চালক জরিমানা না দিয়েই গাড়ি চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, গত ৭ মে থেকে রাজধানীর ১০৫টি ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি শুরু হয়েছে। এসব ক্যামেরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ (পিটিজেড) ক্যামেরা, যা দূরের যানবাহনের নম্বর প্লেটও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “নতুন প্রযুক্তির প্রতি চালকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আইন প্রয়োগের কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে মানুষ আইন মানতে আগ্রহী হয়।”

তিনি জানান, বর্তমানে ১০৫টি এআই ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে। ঈদুল আজহার পর আরও ১০০টি ক্যামেরা যুক্ত করা হবে, যা সড়ক ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে পুলিশ।

আনিছুর রহমান বলেন, “জরিমানা আদায়ে কঠোর হওয়ার অংশ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যে বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক মামলা থাকলে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ট্যাক্স টোকেন, মালিকানা হস্তান্তর, লাইসেন্স নবায়নসহ বিআরটিএর কোনও সেবা দেওয়া হবে না। বিআরটিএ এ প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে।”

বিদেশযাত্রা সীমিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “জরিমানা বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেন বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিদেশ যেতে না পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।”

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, গত কয়েকদিন মূলত জনসচেতনতা তৈরির জন্য ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও সীমিত পরিসরে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে, ঈদের পর মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।