দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টির তাণ্ডবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে যাওয়া, খুঁটি হেলে পড়া, লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং উপকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ঈদের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার (২৭ মে) কোথাও কোথাও দিনভর, আবার অনেক এলাকায় রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা।
আরইবির এক কর্মকর্তা জানান, ঝড়ের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। কোনও কোনও এলাকায় প্রায় সারাদিন বিদ্যুৎ ছিল না। মেরামতের জায়গায় খুঁজে বের করে কাজ শুরু করতেই অনেকটা সময় চলে গেছে। এখনও অনেক এলাকায় মেরামতের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
ঈদ উদযাপনে ঢাকা থেকে জামালপুরে যাওয়া আফজাল হোসেন পড়েছেন মহাবিপদে। তিনি বলেন, “প্রায় ২৬ ঘণ্টা হলো বিদ্যুৎ আসেনি। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়ে জানলাম, তার ছিঁড়ে গেছে কয়েক জায়গায়। মেরামতের কাজ চলছে।”
একই অবস্থার কথা জানান চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার বাসিন্দা রুপনা। তিনি বলেন, “এমনিতেই ঝড় বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এবার তো ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ গিয়ে সাত-আট ঘণ্টায়ও বিদ্যুৎ আসেনি।”
আরইবি জানায়, তাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং গাজীপুর। বুধবারের ঝড়ের সময়ে শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
এদিকে, কুমিল্লার চারটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ঝড়ে একাধিক লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অনেক গ্রাহক দীর্ঘ সময় কোথাও কোথাও ৮-৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিলেন গ্রাহক। একই অবস্থা ছিল শরীয়তপুর ও মাদারীপুরেও।
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুরা, খুলনা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও বাগেরহাট এলাকায় ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও খুঁটিও হেলে পড়ে। বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির প্রায় পুরো এলাকাই প্রায় সারাদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।