Image description

ঈদ মানেই উৎসব। আর সেই উৎসব যদি হয় কুরবানির ঈদ, তবে তো কথাই নেই। দরজায় কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা। এর অর্থই হচ্ছে— ‘ত্যাগের উৎসব’। মুসলমানদের ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পরম আনন্দের একটি দিন। মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। 

পুরো বিশ্বের মুসলমানরা ঈদুল আজহায় মহান সৃষ্টিকর্তার করুণা লাভে পশু কুরবানি দিয়ে থাকেন। এখন চলছে কুরবানির পশু কেনাবেচা। পছন্দের কুরবানির পশু কিনতে সবাই ছুটছেন হাটবাজারে। অন্যদিকে গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে একশ্রেণির অসাধু গরু বেপারি ইনজেকশন দেওয়া গরু ধরিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতার হাতে। 

কুরবানির ঈদ ঘিরে অসাধু ব্যবসায়ীরা গবাদিপশু কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নানা ধরনের ওষুধ, ইনজেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে এসব পশুকে মোটাতাজা করে থাকেন তারা, যা পুরোপুরি আমাদের স্বাস্থ্যের জন ভয়ানক ক্ষতিকর। এসব পশু চেনার উপায় কি? 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেছেন, স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরু দেখতে আকর্ষণীয়, চকচকে এবং হৃষ্টপুষ্ট দেখালেও আসলে সেগুলো মোটাতাজা হয় না। বরং এসব ক্ষতিকর উপাদান রান্নার পরও মাংসে থেকে যায়, যা খেলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করার গরু না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ।

 

 

যেভাবে গরু কেনা উচিত

প্রথমত গরুর বয়স ন্যূনতম দুই বছর হলেই এটা কুরবানির জন্য উপযুক্ত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে গরুর দাঁত দেখে বয়স যাচাই করে কেনা উচিত। গরুর নিচের পাটিতে যদি দুধ দাঁতের পাশাপাশি সামনে অন্তত দুটি কোদালের মতো স্থায়ী দাঁত থাকে, তাহলে বুঝতে নিতে হবে গরুটি কুরবানির উপযুক্ত।

দ্বিতীয়ত কুরবানির জন্য গরুটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে। সে জন্য শিং ভাঙা, লেজ কাটা কিংবা মুখ, জিহ্বা, শরীর, পা, ক্ষুর ও গোড়ালিতে কোনো ক্ষত আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে।

এ ছাড়া গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমতে শুরু করে। এতে গরুটির কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃত নষ্ট হতে থাকে এবং গরুটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায়। এমন গরু কুরবানি দেওয়া যাবে না। কিংবা কুরবানি হবে না।

তৃতীয়ত গাভী কুরবানি দেওয়া যাবে না। কারণ গাভী কুরবানি দেওয়া গেলেও তার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে, গাভীটি গর্ভবতী কিনা। আর গর্ভবতী গাভী কোনো অবস্থাতেই কুরবানি দেওয়া যাবে না। 

চতুর্থত অনেক গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। এ ধরনের গরু কুরবানি দেওয়া যাবে না বলে জানান অধ্যাপক আবুল হাশেম। তিনি বলেন, খুরা রোগাক্রান্ত গরুর ক্ষুর ও মুখে ঘা থাকতে পারে, আক্রান্ত গরু খুঁড়িয়ে হাঁটে এবং খাবার খেতে চায় না। এমন গরু কুরবানি দেওয়া যাবে না। আর এ ধরনের গরু বেশ বিবর্ণ ও হাড় জিরজিরে হয় বলে জানান তিনি। কারণ সুস্থ গরুর দেহের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়।

সুস্থ ও অসুস্থ গরু চেনার উপায়

সুস্থ গরু শনাক্তের ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এ পশু বিশেষজ্ঞ। মূলত কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক আবুল হাশেম বলেন, রাসায়নিক বা ওষুধ দেওয়া গরুর মাংসপেশি থেকে শুরু করে শরীরের অন্য অঙ্গগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। শরীরে পানি জমায় বিভিন্ন অংশে চাপ দিলে সেখানে গর্ত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় নেয়। আর অতিরিক্ত ওজনের কারণে এসব গরু চলাফেরা বা স্বাভাবিক নাড়াচাড়া করতে পারে না। শান্ত থাকে।

তিনি বলেন, রাসায়নিকযুক্ত গরু ভীষণ ক্লান্ত থাকবে এবং ঝিমাবে। আর সুস্থ গরুর গতিবিধি চটপটে থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কান ও লেজ দিয়ে মশা-মাছি তাড়ায়।

এ পশু বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেওয়া গরুর মুখ থেকে প্রতিনিয়ত লালা ঝরবে। কিছু খেতে চাইবে না। রাসায়নিক বা ওষুধ খাওয়ানো গরুর শরীরের অঙ্গগুলো নষ্ট হতে শুরু করায় এগুলো শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। মনে হবে যেন হাঁপাচ্ছে। আর সুস্থ গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে সেটি টেনে খাবে। না হলে জাবর কাটবে। সুস্থ গরুর নাকের ওপরের অংশ ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা থাকে। 

সুস্থ গরুর শরীরের রঙ উজ্জ্বল থাকবে। গরুর পিঠের কুজ মোটা, টানটান ও দাগমুক্ত হবে। রানের মাংস শক্ত থাকবে। 

অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক থাকে শুকনো। রাসায়নিক দেওয়া গরুর পা হবে নরম থলথলে। গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ।