ঈদুল আজহার প্রধান ইবাদত কোরবানি। জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট পশু জবাই করাই কোরবানি। এটি আল্লাহর পছন্দনীয় আমল। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরবানির দিন মানুষের কোনো আমল আল্লাহর কাছে কোরবানি অপেক্ষা অধিক প্রিয় নয়। কেয়ামতের দিন কোরবানির পশু তার শিং, লোম ও খুরসহ উপস্থিত হবে। পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করবে না, তাদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৮২৭৩)
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির সময় শুরু হয় ১০ জিলহজ ঈদের নামাজ আদায়ের পর থেকে। তা চলতে থাকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। অর্থাৎ ঈদের দিন (১০ জিলহজ), ঈদের পর দিন (১১ জিলহজ) এবং তার পরের দিন (১২ জিলহজ) সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোরবানি করা বৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তাশরিকের সব দিনই জবাইয়ের দিন।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৩৮৫৪)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘ঈদের পর দুই দিন কোরবানি করা যায়।’ (মুয়াত্তা মালেক: ১৮৮)। তাই ঈদের দিন কোনো কারণে কোরবানি করতে না পারলে পর দিন নিশ্চিন্তে কোরবানি করা যাবে। ইসলামিক স্কলাররা এ দিনগুলোকে ‘আইয়ামে নাহর’ বা কোরবানির দিনসমূহ বলে উল্লেখ করেছেন।
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যদিও ঈদের পরের দুদিন কোরবানি করা জায়েজ, তবুও ঈদের দিন প্রথম সময়ে কোরবানি করাই উত্তম। কারণ, এটি রাসুল (সা.)-এর আমল ও সুন্নাহ। তিনি ঈদের নামাজ শেষে দ্রুত কোরবানি করতেন। উম্মতকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ঈদুল আজহার নামাজে ঈদগাহে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবা শেষ করে মিম্বর থেকে নিচে নামলেন। এরপর তাঁর কাছে একটি দুম্বা আনা হলো। তিনি নিজ হাতে সেটি জবাই করলেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮১০)
ঝড়বৃষ্টি, কসাই না পাওয়া বা অন্য কোনো বাস্তব কারণে যদি ঈদের দিন কোরবানি করা সম্ভব না হয়, তাহলে ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন কোরবানি করা যাবে। কেউ যদি কোরবানির দিনগুলোয় ওয়াজিব কোরবানি দিতে না পারেন, তাহলে কোরবানির পশু ক্রয় করে থাকলে তা জীবিত সদকা করে দেবে। পশু ক্রয় না করে থাকলে তার ওপর কোরবানির উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। ফতোয়া কাজিখান, খণ্ড: ৩, ৩৪৫)