Image description

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে শনিবার ভর্তি হন পটুয়াখালীর মিজানুর রহমান। হাসপাতালের বিছানায় যখন তার বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টার অংশ হিসাবে দ্রুত নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন; তখন নার্সকে ডাকতে ছুটে যান রোগীর এক স্বজন। তখন রোগীর স্বজন গিয়ে দায়িত্বরত নার্সকে বিষয়টি জানালে তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এরপর দ্বিতীয় দফায়ও সেই নার্সকে ডাকতে গেলেও রোগীর কাছে আসেননি। তখনও নার্স মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এরপর রোগীর মৃত্যু ঘটলে একজন আত্মীয় উচ্চবাচ্য করেন। এ সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত ওয়ার্ডবয়সহ কয়েকজন রোগীর সেই স্বজনকে মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালের অন্য রোগীর স্বজনরা একত্রিত হয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। শনিবার রাত ১টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার বিচার, নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চয়তা ও হাসপাতালে বহিরাগত সীমিত করার দাবিতে রোববার দুপুর থেকে ধর্মঘট ডেকেছেন শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

পুলিশ জানায়, মারা যাওয়া রোগী মিজানুর রহমানের বাড়ি পটুয়াখালী সদরের হাতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায়। শনিবার বিকালে পটুয়াখালীর গলাচিপায় জানাজা নামাজ শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত মিজানের ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার বলেন, আমাদের একজন স্বজন রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে নার্সকে দুইবার ডেকেও পায়নি। তারপর রোগীর মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় লিমন তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সরকারি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ সরোয়ার ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতাল স্টাফরা নাহিদসহ রোগীর স্বজনদের মারধর করে আটকে রাখেন।

নাহিদকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। অন্যদিকে শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও মুখোমুখি অবস্থান নিলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, ‘রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বিএম কলেজ শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বৈঠক করে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীরকে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।