যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরু হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (২৫ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
আমেরিকার সঙ্গে খসড়া সমঝোতার অনেকগুলো বিষয়ে উভয় পক্ষ নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাঘেই।
তিনি আরও বলেন, যদি সমঝোতা স্মারকটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয় পরবর্তীতে অন্যান্য বিষযে আলোচনা শুরু হবে। এই আলোচনায় সবচেয়ে সংবেদনশীল পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের এই মুখপাত্র। তিনি জানান, বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা চললেও ইরানের কর্মকর্তাদের পাকিস্তান সফর কিংবা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের তেহরানে আসার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে হওয়া ফোনালাপের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাঘেই। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইসরায়েল এই চলমান শান্তি আলোচনাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।
বাঘেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলিরা চায়, শান্তি চুক্তিটি যাতে সফল না হয়। সেজন্য তাদের সাধ্যমতো সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনা ভেস্তে দিতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কিছু উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছে তেহরান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো আশঙ্কাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যারা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও শত্রুতা টিকিয়ে রাখতে চায়— ইসরায়েলসহ সেই ইহুদিবাদী শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে সক্রিয় রয়েছে। আর এই প্রচারণার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত ও মানসিকতার ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তেহরান।