দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হল ভাঙচুর এবং মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় ৩১ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হাসানের সই করা অফিস আদেশে এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কারের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’-এর শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটাসহ ‘শহীদ নূর হোসেন হল’-এ গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা হলের নামাজঘরসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে।
পরবর্তী সময়ে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৩১ জন শিক্ষার্থীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১৪ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী— আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের গুরুতর অভিযোগে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল মাঠে খেলা দেখার সময় শহীদ নূর হোসেন হলের শিক্ষার্থী আল ফিমানকে মারধর করে শহীদ আবরার ফাহাদ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে নূর হোসেন হলের শিক্ষার্থীরা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে টিএসসি এলাকা থেকে আবরার ফাহাদ হলের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর করেন।
এরই জেরে দুপুর আড়াইটার দিকে আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নূর হোসেন হলের ভেতর ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা হলের জানালার কাচ, ক্যারম বোর্ড এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
হলে হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকাল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন শহীদ নূর হোসেন হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টার এই অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের শাস্তির আশ্বাস দিলে বিকাল চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।