দেশে শিশুস্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি নানা অনিয়ম, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি, বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালটিতে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। সরকার পরিবর্তন হলেও সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব কমেনি, বরং সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম আরও বেড়েছে।
নিয়োগ-পদোন্নতিতে অনিয়ম: হাসপাতালের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতি ও একাডেমিক যোগ্যতা উপেক্ষা করে অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানটিতে এক ধরনের কমার্শিয়াল প্র্যাকটিসে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক বিতর্কিত নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় গবেষণা প্রকাশনা, শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা এবং একাডেমিক যোগ্যতা ছাড়াই অনেককে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ডা. ইসরাত লাকি ২০১১ সালে মেডিকেল অফিসার পদ ছেড়ে অন্যত্র উন্নত চাকরিতে যোগ দেন। পরে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি আবার অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে ডা. মো. শাহজাহান ২০১৯ সালে অবসর গ্রহণের সময় সব ধরনের অবসর সুবিধা নেন। তিনি আগের সরকারের আমলে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিও পেয়েছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর তিনি আবার পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। অধ্যাপক নাজমা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি একটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় একই সময়ে দুই প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। আরেকটি অভিযোগ রয়েছে ডা. আজহারের বিরুদ্ধে। অবসরের সময় সব ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণের পর তিনি উপপরিচালক (হাসপাতাল) পদে যোগ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ পদ সাধারণত কর্মরত সহযোগী অধ্যাপকদের জন্য সংরক্ষিত এবং এর জন্য অতিরিক্ত বেতন প্রযোজ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়োগে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ডা. কামালের নামও এসেছে অনিয়মের আলোচনায়। অভিযোগ রয়েছে, শুধু ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তিনি সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পর্যন্ত দুটি পদোন্নতি পেয়েছেন এবং বর্তমানে অধ্যাপক হওয়ার চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তিনিই এসব অনিয়মের অন্যতম পরিকল্পনাকারী।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অ্যাডহক ভিত্তিতে ৬৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই ছয় মাসের জন্য এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি নিয়োগের আগে কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ড পদ্ধতিগত ত্রুটি ও নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া জুলাই ছাত্র আন্দোলনের পর ২২ জন ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসককে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে চিকিৎসা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, মেডিকেল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হওয়ার জন্য সাধারণত এমএস, এমডি বা এফসিপিএস ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। কারণ এসব কোর্স দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষাদানের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে এমবিবিএসের পর ডিসিএইচ একটি দুই বছরের ডিপ্লোমা কোর্স। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের চাকরির বয়সসীমাও ৫৯ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতেও এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে।
নিয়ম ভাঙছেন চেয়ারম্যান, পরিচালকের পদত্যাগ: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত অফিস স্থাপন করেছেন। প্রতিষ্ঠানে জরুরি সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহনের সংকট থাকলেও চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য মন্ত্রণালয়ের কথিত ভুয়া অনুমতিপত্র ব্যবহার করে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি সংগ্রহ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ ছাড়া হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আটজন চিকিৎসককে নিয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায় হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পরিচালক পদে ডা. নাজমা ও অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারকের জন্য একটি পক্ষ তদবির চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৩৮৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনে তোড়জোড়: ৩৮৩ কোটি টাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ-২ প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পটি ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সি-ব্লক ভবনের ওপর ভিত্তি করেই নতুন এই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও হাসপাতালের পূর্ববর্তী প্রশাসন প্রকল্পটি বাতিল করেছিল। বর্তমানে এটি আবার অনুমোদনের জন্য তোড়জোড় চলছে বলে জানা গেছে।
সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ভবন থেকে সীমিত সংখ্যক শয্যা বৃদ্ধি পেলেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়ে। প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটার নামে হরিলুটের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভবনের অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে পার্কিংয়ের প্রবেশপথ এতটাই সংকুচিত যে, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রকল্পটি জনস্বার্থে কতটা কার্যকর, নাকি এটি সরকারি অর্থ অপচয়ের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করছে—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, নেসার উদ্দিন নামের এক কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার দাবি করেছেন একাধিক সূত্র। অভিযোগে বলা হয়, তিনি অতীতে বিভিন্ন পরিচালক ও চেয়ারম্যানকে প্রভাবিত করে প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বর্তমান পরিচালক মাহবুবকে বড় প্রকল্পের বিষয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তার পদ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডেভেলপমেন্ট)। পরিচালক মাহবুব তাকে ডেপুটি ডিরেক্টরের (ফাইন্যান্স) মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের সব আর্থিক খাতে তার নিজস্ব লোক বসিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসনে অন্যদের বসবাস: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের মোট আয়তন প্রায় ৬ দশমিক ১ একর। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এই আয়তন কম নয়। কিন্তু ভুল পরিকল্পনা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের কর্মচারীদের জন্য পুরোনো একটি আবাসন রয়েছে। স্থাপনা শিশু হাসপাতালের হলেও বসবাস জাতীয় অর্থোপেডিক্স ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) কর্মচারীদের। স্থাপনায় ১৭৪টি পরিবার বসবাস করলেও এর মধ্যে ১৪০টি পরিবার নিটোরের, বাকি ৩৪টি পরিবার শিশু হাসপাতালের কর্মচারীদের। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত হলেও পরে প্রায় ৬ একর জমি বরাদ্দ হয় শিশু হাসপাতালের নামে। ওই জমির নিয়মিত খাজনাসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করছে শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্থাপনায় অধিকাংশ পরিবার নিটোরের।
বিশৃঙ্খলভাবে চলছে হাসপাতাল: হাসপাতালে চেইন অব কমান্ড কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত দায়িত্ব ও নিয়ম মানা হচ্ছে না; বরং একেকজনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে চলছে কাজকর্ম। প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে অভিজ্ঞ কর্মীদেরও মূল দায়িত্বের বাইরে অপ্রাসঙ্গিক কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়মিত উপস্থিতি, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, প্রশাসনিক অসদাচরণ, উন্নয়ন ও কেনাকাটায় অনিয়ম এবং রোগী বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে, যা হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যা বললেন সদ্য বিদায়ী পরিচালক: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সদ্য বিদায়ী পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়ে পরিচালক বলেন, প্রকল্পটি যৌক্তিক। কারণ আমাদের হাসপাতালে শয্যা সংকট আছে। অনেক রোগীকে ফেরত দিতে হয়। সম্প্রসারণ করা হলে শতাধিক নতুন শয্যা যোগ হবে। অনেক যন্ত্রপাতিও দরকার। যেমন সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই মেশিন নেই শিশু হাসপাতালে। নতুন প্রকল্পের আওতায় সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ অন্যান্য জরুরি যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। সবকিছুই যুক্তিসংগত। প্রকল্পটি ২০১৭ সাল থেকে ঘুরছে, এখন পাস করা গেলে শিশু হাসপাতালে সেবার মান বাড়বে।
আবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের আবাসনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো। মাটির নিচে দেবে গেছে। বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। এ ছাড়া স্থাপনাটি শিশু হাসপাতালের জমিতে হলেও সেখানে নিটোরের জনবল থাকছে। এই জটিলতার সুরাহা হওয়া জরুরি। কাজটা অনেক কঠিন। এই কাজে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি।
পাঁচ অধ্যাপক নিয়োগ ও ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের পদোন্নতির বিষয়ে তিনি বলেন, পিএসসিতে থাকলে শিশু হাসপাতালে পদোন্নতির ক্ষেত্রে তো আপনি বাধ্য। আর জুলাই ছাত্র আন্দোলনের পর পাঁচ অধ্যাপক নিয়োগ তো অনৈতিক কিছু নয়। এই চিকিৎসকরা গত আওয়ামী শাসনামলে বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। তাদের অন্যায়ভাবে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাদের ফের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখানে অন্যায় কিছু হয়নি।
চেয়ারম্যানের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যানের অফিস বা কক্ষের বিষয়ে আইনে কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। এখানে অফিস কক্ষ তৈরি করা, না করায় আইনের বাধ্যবাধকতা কিংবা লঙ্ঘনের কোনো বিষয় নেই। তিনি যাতায়াতের জন্য হাসপাতালের গাড়িও ব্যবহার করছেন। বিষয়টিকে পরিচালক ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
যা বলছেন চেয়ারম্যান: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাঁচজন অধ্যাপকের নিয়োগ এবং ২২ জন ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকের পদোন্নতিতে আইনে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। পাঁচ অধ্যাপকের অনেকে আগে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন জানানো হলে তিনি বলেন, ‘এই কোশ্চেন আমাকে করছেন কেন, এটা পরিচালক ভালো বলতে পারবেন।’
শিশু হাসপাতালে অফিস করা এবং গাড়ি ব্যবহারবিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অফিস করার কী হলো? আমি মাঝেমধ্যে যাই। আমাকে হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান বানিয়েছে। যখন খুশি তখন যাই। যখন ইচ্ছা হয় চলে আসি।’
ম্যানেজিং বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানদের হাসপাতালে কক্ষ ছিল কি না বা তারা নিয়মিত অফিসে যেতেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যানরা যেত, প্রায়ই যেত। যখন কাজ থাকত, যেত।’ গাড়ি ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের গাড়ি তো ব্যবহার করতেই পারি। আমি কি হাসপাতালের পার্ট না? ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান গাড়ি ব্যবহার করতেই পারেন।’ গাড়ি বরাদ্দের চিঠিটা ভুয়া কি না জানতে চাইলে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘কে বলেছে চিঠি ভুয়া।’ এ সময় অসৌজন্যমূলক শব্দ ব্যবহার করে তিনি বলেন, ‘কে বলেছে তার নাম না বললে আমি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না।’
তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘কোন পক্ষের সাংবাদিক আপনি? আপনার শিশুদের চিকিৎসা বেটার হয়েছে কি না, চিকিৎসকদের শিশুরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে কি না, ইন্সট্রুমেন্টাল আইসিইউ-সিসিইউ এগুলো হয়েছে কি না, ওয়ার্ড বাড়ছে কি না, রোগীর ইন্সট্রুমেন্টাল ফ্যাসিলিটিস বাড়ছে কিনা—এগুলো দেখবেন না আপনারা? এই যে কে গাড়ি পেল না পেল, ভুয়া চিঠি—এসব কথা বলতে আসছেন কেন?’
সম্প্রসারণ প্রকল্প বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলেই এই প্রকল্প করা হয়েছিল। তিনতলা পর্যন্ত করে আর কাজ করে নাই, আমরা শেষ করব।’ সদ্য পরিচালকের পদ থেকে ডা. মাহবুবের সরে দাঁড়ানো এবং হাসপাতালে নতুন করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই।’