দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীর কোরবানির হাটগুলোতে পশু আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জেলার খামারিরা ট্রাকে ট্রাকে দেশি গরু নিয়ে আসছেন। তবে বেশির ভাগ হাট এখনো ফাঁকা। ঈদের এখনো প্রায় এক সপ্তাহ বাকি। যদিও এখন পর্যন্ত হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু ওঠেনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা গরুর খাবার দেয়া আর বিশ্রামেই সময় পার করছেন। তবে এবার দাম বেশ চড়া। ক্রেতা সমাগমও খুব একটা দেখা যায়নি। যারা আসছেন তারা শুধুই পর্যবেক্ষণ করছেন। বিভিন্ন হাটে ঘুরে পশুর দাম বোঝার চেষ্টা করছেন।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজধানীতে শেষ সময়েই গরু কেনাকাটা বেশি হয়। জায়গার অভাবে শেষদিকে গরু কিনেন সবাই। তাই প্রথমদিকে হাট ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। কোরবানির সময় ঘনিয়ে এলে আরও বিপুলসংখ্যক পশু ঢাকায় প্রবেশ করবে। তাই শেষের তিনদিনকে টার্গেট করেছেন তারা। আশা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে পশুর সংকট হবে না এবং দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে।
সরজমিন দেখা যায়, তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠে কোরবানির হাট প্রস্তুত করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য হাটকে ঘিরে চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। হাটের ইজারাদারদের পক্ষ থেকে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। একজন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। হাটের পাশেই দু’টি মেডিকেল ক্যাম্প বানানো হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য ভ্রাম্যমাণ রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাটে বাঁশ-খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা গরুদের খাবার দেয়া আর বিশ্রামেই সময় পার করছেন। খামারি ও পাইকাররা বলছেন, পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার গরুর দাম বাড়তি। ঈদের আগে পর্যপ্ত গরু হাটে আসবে বলে আশাবাদী তারা। যদিও এখনো বেচাকেনা খুব একটা হচ্ছে না। ক্রেতার সংখ্যাও খুব কম। দু’-একজন পশু কিনছেন। বেশির ভাগ মানুষ বাজার পরিস্থিতি ও পশুর দাম পর্যবেক্ষণ করছেন। ক্রেতারা বলছেন, বিভিন্ন হাট ঘুরে পশুর দাম বোঝার চেষ্টা করছেন তারা। প্রথম দিকে পশুর চড়া দাম থাকে। পশুর সংখ্যা বাড়লে দামও কমে। তাই বুঝেশুনে পশু কিনতে চান।
ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা নিরাপত্তার দিকটি বিশেষ বিবেচনায় রেখেছেন। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতে হাটের দু’দিকে দু’টি মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। খামারি ও পাইকাররা যেন ভালো পরিবেশ পায় সেটির জন্যও কাজ করা হচ্ছে। খাবার পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে আমাদের একটি দল কাজ করছে। প্রশাসনেরও কড়া নজরদারি রয়েছে। হাটকে ঘিরে যেকোনো চক্রকে মাথাচাড়া দিতে পারবে না বলে জানান তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বিঘ্নে বেচাকেনার জন্য পশুর হাটগুলো কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন। পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে যেকোনো চক্রকে শক্ত হাতে দমন করা হবে। কেউ যেন সিন্ডিকেট না বানাতে পারে সেটিও নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া পশুর দামও পর্যবেক্ষণ করছেন প্রশাসনের লোকজন। অপরদিকে ক্রেতারা জানান, এখনো পশু কেনাবেচা শুরু হয়নি। পুরোদমে শুরু হলে বিভিন্ন চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রশাসন শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি রাখতে পারলেই কেবল তাদের সফলতা বলা যাবে।
এদিকে বগুড়া থেকে ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী কালাম মিয়া। ঈদের আগে আরও গরু নিয়ে আসবেন বলে জানান তিনি। কালাম মিয়া বলেন, এখানো পশু কেনাবেচা শুরু হয়নি। এখন যারা কিনছেন তাদের বেশির ভাগ ব্যবসার জন্য কিনছেন। অনেকের রাখার মতো জায়গা আছে। তাই আগেই কিনে রাখছেন। এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। বিক্রি হবে না জেনেও আগেভাগে গরু এনেছি। এখন না আনলে ভালো স্থানে গরুর প্রদর্শনী করা যায় না। কয়েকদিনে ভালো প্রচার-প্রচারণা হয়ে যাবে। শেষ মুহূর্তে ভালো বেচাকেনা হবে। তিনি বলেন, সবকিছুর দাম বাড়তি। গরু লালন-পালনে অনেক টাকা লাগে। খড়ের দাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গোখাদ্যের দাম বেশি। তাই খামারিরা বেশি দামে বিক্রি করছে। আবার যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তবে বেশি গরু হাটে এলে দাম অনেকটা নাগালের মধ্যে চলে আসবে। মেহেরপুর সদর উপজেলা থেকে ১৫টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন খালেক ব্যাপারী। আগেভাগে গরু আনলেও এখনো বেচাকেনা পুরোপুরি জমে ওঠেনি বলে জানান তিনি। খালেক বলেন, প্রতি বছর গাবতলী হাটে গরু নিয়ে আসি। আজ সকালে এসেছি। আশা করছি, ঈদের আগে সব বিক্রি হয়ে যাবে।
গরু দেখতে দাদার সঙ্গে খিলক্ষেত থেকে এসেছে ১০ বছর বয়সী আয়াশ আহম্মেদ। গরু কেনার জন্য বাড়িতে কান্নাকাটি পর্যন্ত করেছে সে। কিন্তু গরু রাখার মতো জায়গা নেই। তাই শেষ মুহূর্তে কিনবেন বলে জানান তার দাদা বখতিয়ার আহম্মেদ। নাতিকে গরু দেখাতে হাটে এনেছেন। তিনিও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান। সাইফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, এবার গরুর দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। গত বছর ছোট মানের গরু ১ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতো। এবার এমন মানের গরু দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত চাচ্ছে। আগেই কিনে রাখতে চেয়েছিলাম। দাম দেখে আর কেনার সাহস হলো না। শেষ পর্যন্ত দেখি দাম কমে কিনা।