পাবনায় আদালত কক্ষে বিচার চলাকালে এক আসামিকে আরেক আসামি কর্তৃক মাদক সরবরাহ করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক সংক্ষিপ্ত বিচার করে দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ৭ম তলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমান তাদের কারাদণ্ড দেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাবনা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আসেন আসামি তুর্য ইসলাম আসিফ। আদালতের কাঠগড়া থাকা অবস্থায় দস্যুতা মামলায় হাজতে থাকা আসামি সুজন আহমেদ রনির কাছে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছিলেন তিনি।
বিষয়টি উপস্থিত আইনজীবী ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে উভয়কে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে আসিফের কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা এবং রনির কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
পরে কোর্ট পুলিশের সিএসআই জব্দ তালিকাসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমান তুর্য ইসলাম আসিফকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং সুজন আহমেদ রনিকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে পাবনা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল বলেন, আদালত কক্ষে মাদক সরবরাহের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এতে অনুমান করা যায়, মাদকদ্রব্য কতদূর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি ক্ষুদ্র কিন্তু স্পষ্ট অপরাধে দ্রুতবিচার ও দণ্ড কার্যকর হলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে তা কার্যকর প্রতিরোধমূলক বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান পিপি অ্যাডভেকেট জুয়েল।