চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
মেডিকেল চেকআপের জন্য রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে যুক্তরাজ্যে যান। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাননি। সেসময় তিনি ছিলেন কার্যত গৃহবন্দী। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর জন্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
যুক্তরাজ্যে মেডিকেল চেকআপের সময়ই দেশে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন লন্ডনে বিলাসবহুল দামি হোটেলে অবস্থান ও কেনাকাটাসহ বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন বলে খবর প্রকাশ করে।
এনিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপতি জানান, তাঁর যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে অতিসম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও বাস্তবতা বিবর্জিত।’
খবরে রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গীদের যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা একবারেই সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি জানান, প্রকৃত তথ্য হচ্ছে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এই সফরে সরচেয়ে কম সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তা রয়েছেন। দ্বিতীয়ত: যুক্তরাজ্য সফরকালে তিনিসহ তাঁর পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে ২ জনের খরচ ব্যক্তিগতভাবে বহন করা হয়েছে। তৃতীয়ত: সফরকালে বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থানের বিষয়টি সঠিক নয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরকালে যত দামি হোটেলে অবস্থান করেছেন, তার চেয়ে অনেক কম খরচের হোটেলে অবস্থান করার কথাও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ‘প্রফেসর ইউনুস ও তার সফরসঙ্গীরা ৫ তারকা হোটেলের খাবার খেলেও, তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য বাংলাদেশি রেস্তোরাঁর সাধারণ খাবার খেয়েছেন।’
লন্ডনে কোনো ধরনের শপিং নয়, বরং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি সীমিত দূরত্বে যাতায়াত করেছেন বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, যাতায়াতের জন্য প্রচলিত নিয়মেই বাংলাদেশ হাইকমিশন সীমিত সংখ্যক সাধারণ গাড়ির ব্যবস্থা করেছে। এখানে বিলাসবহুল বা বাড়তি কোনো আয়োজন ছিল না।
দেশে ‘গভীর সংকট’ মোকাবিলায় এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণে নিজের অগ্ৰণী ভূমিকা পালনের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যায়িত করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানকেই অবজ্ঞা করার শামিল।