Image description

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সম্মানিত চারটি মাসের অন্যতম জিলহজ মাস। এই মাসেই হজ পালন করা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি দেওয়া হয়। এই মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহর কাছে প্রিয় ও বরকতময়। কোরআনে আল্লাহ তাআলা জিলহজের প্রথম দশ রাতের কসম খেয়েছেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যে দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়। এমনকি সাধারণ জিহাদও এই দশকের আমলের সমতুল্য নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)

 

এই দশ দিনে বিশেষ কিছু আমল করা যেতে পারে। এখানে কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো—

 

তওবা করা

যে কোনো নেক আমলের আগে অন্তরকে গুনাহ থেকে পবিত্র করা জরুরি। আল্লাহর নাফরমানি ছেড়ে তাঁর হুকুম পালনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং অতীতের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে ফিরে আসাই হলো তওবা। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো; বিশুদ্ধ তওবা...।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮)

 

নামাজে যত্নবান হওয়া

জিলহজের প্রথম দশ দিনে সব ফরজ ইবাদত সময়মতো আদায়ের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বেশি বেশি সেজদা করলে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং গুনাহ ক্ষমা করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫০২)। বিশেষ করে ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যেতে পারে।

 

রোজা রাখা

জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিন (বিশেষ করে ৯ জিলহজ) রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) জিলহজের এই রোজাগুলো কখনো ছাড়তেন না। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখলে জাহান্নামের আগুন সত্তর বছরের পথ দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৪০)

 

জিকির ও তাকবির পাঠ করা

এ দিনগুলোতে বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পাঠ করা মুস্তাহাব। বিশেষ করে ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। তাকবিরে তাশরিক হলো—‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৩২)

 

আরাফার দিন রোজা রাখা

হজ পালনকারী ছাড়া অন্যদের জন্য আরাফার দিনের রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুসুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এটি (আরাফার রোজা) পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)

 

হজ-ওমরাহ পালন করা

যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য এই দিনগুলোতে হজ ও ওমরাহ করা শ্রেষ্ঠ ইবাদত। কারণ, গ্রহণযোগ্য হজের পুরস্কার হলো জান্নাত এবং এর মাধ্যমে মানুষ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬৮৩)

কোরবানি করা

১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কোরবানি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি ইবরাহিমের (আ.) সুন্নত এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে দুটি শিংওয়ালা দুম্বা কোরবানি করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫৬৫)

 

চুল ও নখ না কাটা

যারা কোরবানি করার ইচ্ছা রাখেন, তাদের জন্য উত্তম হলো জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত শরীরের চুল, নখ বা চামড়া না কাটা। কোরবানি দিতে অক্ষম ব্যক্তিও যদি এই নিয়ম পালন করেন, তবে তিনি কোরবানির পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৭৭)