কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় দাফনের প্রায় পাঁচ মাস পর এক শিশুর কবর খুঁড়ে মরদেহের মাথা ও কাফনের কাপড় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের নাওড়া পূর্বপাড়া এলাকায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে কয়েকজন যুবক কবরস্থানের পাশের একটি তালগাছ থেকে তাল কাটতে গেলে একটি কবরের ওপরে গলিত অবস্থায় মাথাবিহীন একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহত শিশুর স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহটি ছিল নাওড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে মারুফের (১৩)।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে বিষপানে আত্মহত্যা করার পর মারুফকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ বের করে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে কাফনের কাপড়ও নিখোঁজ ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবারের সম্মতিতে মাথাবিহীন মরদেহটি পুনরায় দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকের ধারণা, তন্ত্রমন্ত্র বা কথিত যাদুবিদ্যার অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে মরদেহের মাথা ও কাফনের কাপড় নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন আরও ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারে।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।