Image description

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে খামারিদের বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি পাঠিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত চার থেকে পাঁচ দিনে অন্তত ১৫টি বাড়িতে এ ধরনের চিঠি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঈদকে সামনে রেখে গরুর খামারকেন্দ্রিক এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চিঠিগুলোতে নিজেদের ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয় দিয়ে দুর্বৃত্তরা লিখেছে, ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, গো-খামারের দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস।’ অধিকাংশ চিঠিতেই বিভিন্ন কোড নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় খামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন জানান, গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারই কোরবানির পশু লালনপালনের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ একের পর এক রক্তমাখা চিঠি আসায় মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে, সম্প্রতি একই গ্রামে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে। খামারি আমজাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে জ্ঞান ফিরে দেখেন, ঘরের শোকেজের লকার ভেঙে এক লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, পাঁচ ভরি রুপার গহনা ও একটি গরুসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিনি শুক্রবার রাতে শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অপর ভুক্তভোগী আবু হোসেন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে তার বাড়ি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু চুরি করা হয়।

এদিকে, আবু সাঈদের বাড়িতে গরু লুটের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তার মেয়ে বিথি খাতুনকে উদ্দেশ্য করে আরেকটি রক্তমাখা চিঠি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।

টেকুয়াপাড়া মিলন সংঘের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। তারপরও আতঙ্ক কাটছে না।’

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম শনিবার রাত পৌনে ১২টায় বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ সুপার মহোদয় রাতেই সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলতে ওই গ্রামে আসছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তার অপেক্ষায় রয়েছি।’