জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল বলেন, আবাসন খাত কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট বিক্রির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানির বিক্রি ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। নির্মাণসামগ্রীর উচ্চমূল্য, ব্যাংক ঋণের কড়াকড়ি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে রড, সিমেন্ট, ইট, বালু ও পাথরের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। রডের দাম প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, সিমেন্টের দাম ১৫-২৫ শতাংশ। ইট ও অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। ডলারসংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল বলেন, আগে হোম লোনের সুদহার ৭-৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। এখন তা ১১ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
এতে নতুন ক্রেতারা ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে যারা আগে ঋণ নিয়েছেন, তারাও বাড়তি কিস্তির চাপে পড়েছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে বিক্রি স্থবির হয়ে পড়ছে। আবাসন ও নির্মাণ খাত অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। প্রায় ২৬৯টির বেশি লিংকেজ শিল্প এ খাতের সঙ্গে জড়িত। রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পরিবহনসহ অসংখ্য খাত আবাসন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের এমডি বলেন, এ খাতে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণশ্রমিক, প্রকৌশলী, স্থপতি, রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক-অনেক পেশাজীবী এ খাতে যুক্ত। ফলে আবাসন খাতের মন্দা পুরো অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বিপুল সংখ্যক রেডি ফ্ল্যাট অবিক্রীত পড়ে আছে। উচ্চমূল্য এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এতে ডেভেলপারদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আটকে যাচ্ছে এবং নগদ অর্থপ্রবাহে সংকট তৈরি হচ্ছে।
ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও মাঝারি ডেভেলপাররা। কম বিক্রি, উচ্চ নির্মাণ ব্যয় এবং ব্যাংক ঋণের চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকল্প স্থগিত করেছে। কিছু প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধও হয়ে গেছে। এতে পুরো বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্মাণ খাতের মন্দার কারণে রড, সিমেন্ট ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের মূলধন আটকে আছে। অনেকে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ খাতে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হয়েছে। জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের এমডি বলেন, ‘প্রথমত, স্বল্প সুদের হোম লোন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মধ্যবিত্তরা আবার ফ্ল্যাট কেনার সাহস পান। দ্বিতীয়ত, নির্মাণ উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, আবাসন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে কর ও নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। সঠিক নীতি সহায়তা পেলে এ খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’