Image description

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে রাজধানীর শাহবাগে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতার মালা দিয়েছে দুবৃত্তরা। পরে সেখান থেকে জুতার মালাগুলো সরিয়ে নেন স্থানীয় জনতা। দিনে-দুপুরে জুলাই স্তম্ভে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

আজ শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শাহবাগের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে জুতার মালাগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন একজন। জুতার মালা সরিয়ে নেওয়া সেই ব্যক্তি বলেন, যারা জুলাইকে অস্বীকার করে তারাই এ কাজ করেছে। কারা এর বিপরীত শক্তি, কাদের গায়ে লাগে জুলাইয়ের স্কাল্পচার— এটা বুঝতে বাকি নাই কারা এসব করেছে। তারা সুযোগ পেলে এগুলো করবে, এটা তেমন কিছু না।

দোষীদের শাস্তি দাবি করে তিনি আরও বলেন, এখানে সিসি ক্যামেরা আছে নিশ্চয়। এটা প্রশাসনের দায়িত্ব, সিসিটিভি দেখে এগুলাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

এ সময় আরেক ব্যক্তি বলেন, এখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকগুলো এখানে ঘুরঘুর করে। আমরা যখন একটা মাইক অথবা একটা ব্যানার নিয়ে যখন আমরা কখনো দাঁড়াই, আমাদেরকে অন্তত ১০০ বার তারা ডিস্টার্ব করে। তারা জিজ্ঞেস করে যে আপনারা কারা, এখানে কোথায় থেকে আসছেন, কি করছেন?

তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের পিছনে তারা ঘুরঘুর করতে পারে, আর আজকে এরকম একটা জঘন্য ঘটনা তারা এখানে ঘটিয়েছে— আজকে কিন্তু এখানে কেউ নাই। আমাদের এসে এটাকে অপসারণ করা লাগছে। আমরা মনে করি যে এখানকার যারা দায়িত্বরত এবং কর্তব্যশীল আছেন, তাদেরকে এটা জবাবদিহিতে আনতে হবে। এই ধরনের অপকর্ম করে এখান থেকে চলে যাবে, এই জুলাই স্তম্ভে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে তো আমরা সহজে ছাড় দিতে আমরা রাজি না।

এ ঘটনায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না অভিযোগ করে একজন বলেন, হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে আমাদেরকে এখন বের হয়ে আসা দরকার। জুলাই আন্দোলনে সারা বাংলাদেশের প্রায় ৮০% মানুষের সমর্থন ছিল, রাজপথে অবস্থান ছিল। এখন দেখেন, মাত্র দু-চারজন ব্যক্তি যে কাজগুলো করছে, সেগুলো পুলিশ কেন যেন দেখেও দেখছে না। এই যে আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, দেখবেন যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমার কথাগুলো নোট ডাউন করে।

তিনি বলেন, আমি শুধু একটা কথাই বলি, আপনারা পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসেন। আপনারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আবারও ঢেলে সাজান। আপনি যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভিতর যে ৫০০ আওয়ামী লীগের সময়ের চাকরিপ্রাপ্ত লোকগুলো, তাদেরকে রেখে যদি আপনি সংস্কার আর উন্নতি করতে চান— সেটা কোনোভাবেই সম্ভব না।

এদিকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতার মালা পরানোর বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ ছাড়াও শাহবাগ থানার ওসি মো. মুনিরুজ্জামানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।