Image description
বাজেটে দীর্ঘ হচ্ছে খরচের ফর্দ। ব্যয় আরো বাড়বে

কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট তৈরি করছে সরকার। সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে হিমশিম খাচ্ছে; আয় না বাড়লেও তারা প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচে রীতিমতো সংগ্রামে লিপ্ত।

ঠিক সেই মুহূর্তে, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাবের মধ্যেও সরকার বড় বাজেটে বেশি কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে। এটি করতে গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর ধান, চাল, গম, ডাল, আলু. পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য, অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল চালানো, মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ আরো অসংখ্য খাতে বাড়তি কর বসানোর প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে নতুন অর্থবছরে মানুষের দিনযাপন আরো কঠিন হবে। খরচের ফর্দ লম্বা হবে।
 
ভোক্তারা আরো বেশি চাপে পড়বে বলে ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, বাজেটের কাজ প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে। এখন চলছে কাটাছেঁড়া। বড় বাজেট বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিতে হয়েছে সরকারকে।

তাই এবার করের খাত ও হার বাড়াতে হচ্ছে। তবে এমন সব খাতে করের খড়্গ পড়তে যাচ্ছে, যার ফলে সরাসরি তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।

এমনিতেই বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশ।

এর আগে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেটের দিকনির্দেশনা দিয়ে দিনভর বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বেশ কিছু বিষয় আবারও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বৈঠক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, আসছে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলেও ঠিকই করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার আয়োজন করেছে এনবিআর। আর তা করতে গিয়ে নিত্যপণ্যেই বসানো হচ্ছে বাড়তি কর। বাজেটে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, মোটা আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর উৎস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।

দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাহন হিসেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। এসব বাহন ব্যবহারে আয়কর দিতে হয় না। বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার, জিপ, এমনকি বাস-ট্রাক-পিকআপের মতো বাহন থেকে অগ্রিম আয়কর আদায় করে সরকার। আগামী বাজেটে মোটরসাইকেট ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকেও কর আদায়ের পরিকল্পনা আছে। জানা গেছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে অগ্রিম আয়কর দুই হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা। ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতিবছর ১০ হাজার টাকা আদায়ের ছক কাটা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকার করের আওতায় আনতে চায় দেশের রাস্তার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও। সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলে পাঁচ হাজার, পৌরসভায় হলে দুই হাজার ও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছর এক হাজার টাকা কর দিতে হবে।

মোটরসাইকেল কম্পানি হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১২৫ সিসির মোটরসাইকেল যিনি চালান তাঁর আয় গড়ে ৪০ হাজার, ১৫০ সিসির ওপরে হলে তাঁর আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে হতে পারে। ১৫০ সিসির একটি বাইকের দাম দুই লাখ টাকাও আছে, আবার ছয় লাখ টাকাও আছে। ছয় লাখ টাকায় যিনি বাইক কিনছেন তাঁর জন্য প্রতিবছর কর দেওয়া কোনো ব্যাপার না। কিন্তু বাকিদের ওপর এর প্রভাব পড়বে। এতে সামগ্রিক বিক্রি হুমকির মুখ পড়বে।’

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এলইডি/এনার্জি সেভিং লাইট প্রতিটি ঘরের জন্যই খুবই প্রয়োজনীয় উপকরণ। এ ছাড়া ঘর বা অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সিসি ক্যামেরা, ব্যাংকের বুথের জন্য এটিএম মেশিন আর বিলাসবহুল কোনো জিনিস নয়। তবে রাজস্ব আদায় বাড়াতে এসব পণ্য উৎপাদনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-কর আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে। এসব পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা তুলে দিতে চায় সরকার। ফলে ঘরে ব্যরহারের উপকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

বর্তমানে স্বর্ণের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত আছে। তবে বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি নিশ্চিত করতে ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে প্রতি ভরিতে পাঁচ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের সুপারিশ করবে এনবিআর।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে স্ল্যাবে পরিবর্তন আনায় বর্তমানে একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় সাত লাখ ২০ হাজার টাকা হলে তাঁকে কর দিতে হতো আট হাজার টাকা। আসছে করবর্ষে এই করের পরিমাণ হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। স্ল্যাব পরিবর্তন ও করহার বাড়ানোর ফলে করের জালে পিষ্ট হবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। অনেক দাবির পরও কমছে না করপোরেট করহারও।

ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো সময়ের চাহিদা। এই সীমা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা উচিত। দেশের সাধারণ মানুষ এমনিতেই কঠিন সময় পার করছে। করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ালে প্রান্তিক পর্যায়ের করদাতারা ভোগান্তিতে পড়বেন। সৎ করদাতারা সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দিতে নিরুৎসাহিত হবেন।’

গরিব-মধ্যবিত্তের মতো ধনীদেরও আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি কর দিতে হবে। বর্তমানে একজন করদাতার নিট পরিসম্পদের মূল্যমান চার কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জ শূন্য। চার কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া একাধিক গাড়ি থাকলে সিসিভেদে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পরিবেশ সারচার্জ নেওয়া হয়। তবে আগামী বাজেটে বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে চার কোটির বেশি, তবে ১০ কোটির কম সম্পদ থাকলে তাঁকে সম্পদমূল্যের ০.৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি তবে ২০ কোটি কম হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটির বেশি অথচ ৫০ কোটির কম হলে ১.৫০ শতাংশ ও ৫০ কোটির বেশি হলে ২ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।

রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই রপ্তানি প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে প্রণোদনার বিপরীতে ১০ শতাংশ উৎস কর কেটে নেওয়া হয়। আগামী বাজেটে ২০ শতাংশ কর নির্ধারণের পথে হাঁটছে সরকার। এতে বিপাকে পড়বেন দেশের রপ্তানিকারকরা।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয় মূলত এখানে ভর্তুকির প্রয়োজন আছে। এই ভর্তুকি দিয়ে সরকার মনে করছে সে লাভবান হচ্ছে। যেখানে ভর্তুকির প্রসঙ্গ আসে সেখানে লাভের প্রশ্ন আসে না। আমরা যদি মনে করি দেশের টেক্সটাইল টিকিয়ে রাখা দরকার, তাহলে ব্যবসা করব অথবা আমদানি করব।’

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হলে স্বাভাবিকভাবে দাম বাড়বে। সাধারণ মানুষের কষ্ট ও যন্ত্রণা বেড়ে যাবে। কারণ ব্যবসায়ী নিজের পকেট থেকে কিছু দেন না। টাকাটা ভোক্তার পকেট থেকে যায়। আর কোনো নিত্যপণ্যের ওপর বাড়তি কর আরোপ করাই উচিত না। এসব পণ্য মানুষের প্রতিদিনের জন্য জড়িত। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। সরকারের উচিত কর না বাড়িয়ে বিভিন্ন খাতের রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা। ফাঁকি বন্ধ করতে পারলেই আদায় অনেক বেড়ে যাবে। করহার বাড়ালে সেই টাকা সরকার পায় না, তা কর্মকর্তাদের পকেটে চলে যায়।’

জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করবেন।

করের বোঝা না চাপানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এদিকে বাজেটে বাড়তি করের বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাজেট প্রণয়নে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দিনভর বৈঠকে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্র তা নিশ্চিত করেছে। বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহায়ক বাজেট করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ১০টা থেকে বৈঠক শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও এনবিআরের বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটে সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি কমানো। তবে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। বৈঠক সূত্র জানায়, দ্বিগুণ হারে কর বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর বসানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আগের প্রস্তাবিত হারের তুলনায় তা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার করহারও কমিয়ে আনতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, এয়ারকন্ডিশনার, ফ্রিজ, এলইডি/এনার্জি সেভিং লাইট, ঘর বা অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সিসি ক্যামেরা, ব্যাংকের বুথের জন্য এটিএম মেশিনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-কর আগের তুলনায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব আরো পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে স্বর্ণের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত আছে। তবে বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি নিশ্চিত করতে ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে প্রতি ভরিতে পাঁচ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল এনবিআর। তবে যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে স্বর্ণ ব্যবহারের রেওয়াজ থাকায় প্রধানমন্ত্রী ভরিপ্রতি ভ্যাটের হার আরো কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।

সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে হার্টের রিং, ডায়ালিসিসের টিউবের পাশাপাশি ঝুট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব ও আবগারি শুল্কের সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ করার প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ও করপোরেট করহার নির্ধারণ করে রাখায় এ নিয়ে কোনো বিশদ আলোচনা হয়নি। অনুমোদিত হয়েছে সম্পদ করের প্রস্তাব।