Image description

পবিত্র ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে সিলেটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোটের কারবারিরা। জাল নোট ছাপানো ও নিজেদের চক্রের মাধ্যমে তা সিলেট বিভাগে ছড়িয়ে দিতে নানা তৎপরতা শুরু করেছে তারা। বাইরে থেকে সিলেটে এসে ওই চক্রটি জাল নোটের কারবার করে থাকে। তাদের লক্ষ্য শর্টকাটে বড়লোক হওয়া। ৫০০ টাকার একটি নোট চালাতে পারলে চক্রের নিয়ন্ত্রণকারীরা সদস্যদের ২০০ টাকা দিয়ে থাকে। ঢাকা থেকে জাল নোট ছাপা ও পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। র‌্যাব-৯ এর অভিযানে ওই চক্রের চার সদস্য আটকের পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আজহায় সিলেটে কেনাকাটার পরিমাণ বেড়ে যায়। এই সুযোগে প্রতি বছর জাল নোটের কারবারিরা সিলেটে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে এই চক্রটি সিলেটে ফাঁদ পেতেছে। ঈদ সামনে রেখে দোকানগুলোতে কেনাকাটা ও ভিড় বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজনকে প্রতারিত করছে। গত মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা থেকে জাল নোট চক্রের এক সদস্য আটক হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর লালবাজারস্থ একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই চক্রের আরও তিন সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫ লক্ষাধিক টাকার জাল নোট। আটক হওয়া চারজনই সিলেটের বাইরের। এর মধ্যে দুজনের বাড়ি শেরপুর, একজনের বরিশাল ও একজনের বাড়ি গোপালগঞ্জ। সিলেটের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তারা জাল নোটের কারবার করে আসছিল। 

জিজ্ঞাসাবাদে আটকদের দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, চক্রটি মূলত ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। চক্রের সদস্যরা নানা পন্থায় জাল নোট ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি ৫০০ টাকার জাল নোটে ২০০ টাকা ও ১ হাজার টাকার নোটের জন্য ৪০০ টাকা পেয়ে থাকে চক্রের সদস্যরা। জাল নোট দিয়ে প্রতারণার জন্য চক্রের সদস্যরা প্রধানত টার্গেট করে থাকে ব্যবসায়ীদের। র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতারক চক্রের সদস্যরা জাল নোট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। ওই চক্রের মূলহোতাদের কাছে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে তারা টাকা পাঠায়। সিলেটে এ চক্রের স্থানীয় কোনো এজেন্ট আছে কি না তা র‌্যাব খতিয়ে দেখছে বলে জানান র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা। এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা প্রতিনিয়তই এই চক্রের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই বড় দোকানগুলোতে দু-একটি জাল নোট পড়ছে।