চারপাশে নিস্তব্ধতা। ভোরের ফিকে আলো পড়ছে রাস্তায়। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ফজরের নামাজের পর আব্দুর রহমান প্রতিদিনের মতোই সকালে হাঁটার জন্য বারিধারা ডিওএইচএস মসজিদ থেকে বের হন।
পায়জামা ও টি-শার্ট পরে অন্য দিনগুলোর মতো একই পথ ধরে তিনি হাঁটতে থাকেন। তার থেকে কয়েক ফুট দূরেই একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে থামে। কোনো নম্বর প্লেট নেই। গাড়িটি থেকে দুজন নেমে তার পেছনে চলতে থাকে। আব্দুর রহমান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই মাইক্রোবাসটি থেকে আরও দুজন নেমে তার পথ আটকে দাঁড়ান। সবারই শারীরিক গড়ন ছিল শক্তপোক্ত। তারা আব্দুর রহমানকে গাড়িটিতে উঠতে বলেন।
সদ্যবিলুপ্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) স্বতন্ত্র পরিচালক আব্দুর রহমান গাড়িতে উঠতে রাজি না হলে চারজন তাকে ঘিরে ধরে জোর করে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেন।
প্রায় একই সময়ে এই ঘটনাস্থলের ১০ কিলোমিটার দূরে উত্তরা এলাকায় হুমায়ুন কবিরের বাড়ির সামনে একটি কালো গাড়ি থামে। তৎকালীন এসআইবিএল বোর্ড সচিব হুমায়ুন কবির তখন গোসল করছিলেন। বাড়ির দরজায় দ্রুত কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। বাথরুমের দরজার বাইরে থেকে তার স্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজন এসেছে, তোমাকে খুঁজছে..।’
হুমায়ুন কবির এসে দেখেন, সাদা-পোশাকে চার-পাঁচজন দাঁড়িয়ে আছেন। তারা নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং তাদের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরকে যেতে বলেন।
সেইদিনের ঘটনা স্মরণ করে হুমায়ুন কবির জানান, তারা তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে তার স্ত্রী আপত্তি করেন। লোকগুলো হুমায়ুন কবিরের স্ত্রীকে একদিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে এবং হুমকি দিয়ে তাকে জোর করে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেন।
ওদিকে চলন্ত গাড়ির ভেতরে কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্দুর রহমান বুঝতে পারেন তিনি কোথায় আছেন এবং তাকে বহনকারী গাড়িটি একটি গোয়েন্দা সংস্থার। অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে কচুক্ষেত এলাকার একটি বড় অফিস কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
দ্য ডেইলি স্টারকে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেদিন। আমার কাছে মোবাইলটাও ছিল না। পরিবারকেও কিছু জানাতে পারছিলাম না। আমার স্ত্রী ও মেয়েরা হাসপাতাল থেকে থানা সব জায়গায় আমাকে খুঁজেছে।’
আব্দুর রহমানের মতোই হুমায়ুন কবিরকেও একই গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে শুধু তারা দুজনই নন, তাদের মতো আরও অনেকে ছিলেন সেখানে।
সেদিন সকালে আব্দুর রহমান ও হুমায়ুন কবিরসহ এসআইবিএলের আটজন কর্মকর্তা ও পরিচালককে রাজধানীর বারিধারা, উত্তরা, মিরপুর, গুলশান, জিগাতলা, মগবাজার, বনানী ও তেজকুনিপাড়া থেকে তুলে নেওয়া হয়। তাদের কেউ সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন, কেউ বাসায় কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন, কেউ গোসল করছিলেন, আবার কেউ সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
বাকি ছয়জন হলেন তৎকালীন এসআইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনিসুল হক, পরিচালক হাকিম ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া, পরিচালক আবুল বাশার ভূঁইয়া এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মঈনুল হাসান ও এএফএম আসাদুজ্জামান।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় এসআইবিএলের তৎকালীন চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ রেজাউল হককে জোর করে তুলে নেওয়া হয়নি। বরং ওই গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন তাকে কল করে দেখা করতে বলেন।
সিনেমার মতো এমন গোয়েন্দা অভিযানের পর প্রথমবারের মতো দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন আব্দুর রহমান, হুমায়ুন কবির, রেজাউল হক, শহীদ হোসেন ও আবুল বাশার ভূঁইয়া। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ভিডিও ও মোবাইলে সাক্ষাৎকারে তারা বিস্তারিতভাবে জানান, কীভাবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এসআইবিএল দখল করেন এস আলম।
ঘটনার দিন সকালে তারা নয়জনই ঢাকার মতিঝিলের সিটি সেন্টারে এসআইবিএলের ৪০৪তম বোর্ড সভায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সভাটি হওয়ার কথা ছিল দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে। কিন্তু তাদেরকে কচুক্ষেতে নিয়ে আটকে রাখা হয় আলাদা আলাদা কক্ষে। কেউই জানতেন না যে অন্যরাও সেখানে আছেন। এটাও জানতেন না যে ওই গোয়েন্দা কার্যালয়ের ভেতরেই তাদের পরিচালনাধীন ব্যাংকটি দখলের প্রক্রিয়া চলছে।
এর কয়েক মাসের মধ্যেই এসআইবিএলের নতুন বোর্ড এস আলম ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ ঋণ দিতে শুরু করে। এর ফলে একসময় স্থিতিশীল এই ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দেয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এসআইবিএলের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৮৪১ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা গেছে এস আলম গ্রুপ ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে। ওই সময় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকায়। এটা ছিল ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যাংকটির মূলধনও ঋণাত্মক হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত এই ঋণ বিতরণের বেপরোয়া প্রবণতাই এসআইবিএলকে নগদ অর্থের সংকটে ফেলে এবং ২০২৫ সালে আরও চারটি দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়।

গোয়েন্দা কার্যালয়ে এস আলম
গোয়েন্দা কার্যালয়ে তুলে আনার পর সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু, আতঙ্কে তাদের বেশিরভাগই কিছুই খেতে পারেননি। অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন।
আব্দুর রহমান সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার রক্তচাপ বেড়ে গেলে একজন ডাক্তার ডাকা হয়। সেই ডাক্তার পরামর্শ দেন, আমাকে যেন বাসায় পাঠানো হয়। কিন্তু তারা সেটা করেনি। আমাকে সেখানেই একটি বিছানায় শুতে দেওয়া হয়।’
ভবনের অন্য একটি অংশে বোর্ড সচিব হুমায়ুন কবিরকে যে কনফারেন্স রুমে নেওয়া হয়, যেখানে ডিজিএফআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছবি ঝোলানো ছিল। ওই রুমে তিনি এমন একজনকে দেখতে পান, যাকে সেখানে দেখার কথা তিনি ভাবতেও পারেননি। সেই ব্যক্তি ছিলেন চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। এস আলম সেখানে এমনভাবে বসে ছিলেন, যেন তিনিই সেখানে কর্তা।
তুলে আনা আট কর্মকর্তা ও পরিচালকের মধ্যে ছয়জন দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন, তারা সেদিন ওই গোয়েন্দা কার্যালয়ে এস আলমকে দেখেছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি তো তাকে দেখে হতভম্ব। তিনি আমাকে বসতে বললেন। তারপর সেদিনের বোর্ড সভা মতিঝিলে না করে ওয়েস্টিন হোটেলে করতে বললেন।’
এস আলম তিনটি নথি তুলে দেন হুমায়ুন কবিরের হাতে। সেখানে ছিল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের সই করা পদত্যাগপত্র।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পদত্যাগপত্রগুলো দেখে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। যারা আমাকে উদ্ধার করবে বলে মনে করছিলাম, তারাই পদত্যাগ করেছেন। আমার আর কী করার ছিল?’
তিনি জানান, তাদের সই নেওয়া হয়েছিল সাদা কাগজে। পরে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র হিসেবে সেটা প্রস্তুত করা হয়।
দ্য ডেইলি স্টার এমন দুটি পদত্যাগপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করেছে।
এস আলমের নির্দেশে সেদিনের বোর্ড সভা সিটি সেন্টারের বদলে হোটেল ওয়েস্টিনে হবে বলে নোটিশ জারি করেন হুমায়ুন কবির।
মেজর (অব.) রেজাউল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশি রিমান্ডের হুমকি দিয়ে আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। আমারই এক জুনিয়র কর্মকর্তা আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে বলেছিল, তারা আমাকে হেফাজতে নেবে।’
এই ঘটনার মাত্র কয়েক মাস আগে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। সেই একই কৌশলেই দখল করা হচ্ছিল এসআইবিএল।
যেভাবে দখল করা হয়
এই দখল প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত অধিকাংশ নথি তৈরি করেছিলেন আব্দুর রহমান। তুলে আনা স্বতন্ত্র পরিচালক আব্দুর রহমান নন, এই আব্দুর রহমান ব্যাংকটির বোর্ড সচিবালয়ের এক জুনিয়র কর্মকর্তা। তাকে এসআইবিএলের মতিঝিল অফিস থেকে তুলে আনা হয়েছিল। ডিজিএফআইয়ের কার্যালয়ে বসে পদত্যাগপত্র খসড়া তৈরি; বোর্ড মিটিংয়ের কার্যবিবরণী প্রস্তুত; চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ‘অনুমোদন’ নথিভুক্ত এবং তাদের বদলে নতুন নিয়োগের নথি তৈরি করতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে কর্মরত আব্দুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গোয়েন্দা কার্যালয়ে বসে আমাকে বোর্ডের এসব কার্যবিবরণী লিখতে বলা হয়েছিল।’
ওই কার্যালয়েই আটটি প্রস্তাব খসড়া ও অনুমোদন করা হয় এবং হুমায়ুন কবিরকে জোর করে সেগুলোতে সই করানো হয়। সেখানে চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, তাদের বদলে নতুন নিয়োগ এবং কোম্পানি সচিবের বদলির নথিও ছিল।
মেজর (অব.) রেজাউল হকের জায়গায় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান করা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফকে। এস আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. আনিসুল হকের স্থলাভিষিক্ত হন এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওসমান আলীকে নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
হুমায়ুন কবিরকে সরিয়ে তার জায়গায় কোম্পানি সচিব করা হয় আব্দুল হান্নান খানকে। আব্দুল হান্নান আগে আল-আরাফাহ, ইউনিয়ন ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আব্দুল হান্নান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আব্দুস সামাদ লাবু (এস আলমের ভাই) আমাকে ওই (গোয়েন্দা) অফিসে যেতে বলেন। আমি ভয়ে রাজি হয়ে যাই। ভেবেছিলাম, না গেলে হয়তো চাকরি চলে যাবে কিংবা পদোন্নতি আর হবে না।’
ওয়েস্টিনে ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা
মতিঝিলের প্রধান কার্যালয় থেকে ওয়েস্টিন হোটেলে স্থানান্তর করা সেই বোর্ড সভা দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয়। আসলে এই সভা ছিল নিছকই আনুষ্ঠানিকতা।
সাধারণত বোর্ড সভা যেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টাব্যাপী হয়ে থাকে, সেখানে এই সভা শেষ হয় মাত্র ৩০ মিনিটে। চেয়ারম্যান, এমডি ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানকে ইতোমধ্যে সরিয়ে দিয়ে নিজ নিজ বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন এসআইবিএলের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান।
সেদিনের বিষয়ে জানতে সাইদুর রহমানকে দ্য ডেইলি স্টার একাধিক কল ও ম্যাসেজ দিলেও তিনি জবাব দেননি।
সভায় উপস্থিত ছয় কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্য জানান, ওই বৈঠকে বোর্ডের সামনে নিজের পরিচয় দেন এস আলম। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা কার্যবিবরণী উপস্থাপন করা হয়।
দ্য ডেইলি স্টারের হাতে আসা নথি থেকে দেখা যায়, সভার নোটিশে ৩৬টি এজেন্ডা ছিল। কিন্তু, সেখানে মাত্র তিনটি অনুমোদিত হয় এবং বাকিগুলো স্থগিত রাখা হয়। তবে ‘বিবিধ’ অংশে একসঙ্গে ১৪টি প্রস্তাব পাস করা হয়। এর সবই ছিল পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি ও সিইও আনিস এ খান বলেন, ‘যখন একটি ব্যাংকের বোর্ড সভায় প্রায় সব এজেন্ডা স্থগিত রাখা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় বিবিধ আলোচনায়, তখন আর সেটাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলার সুযোগ থাকে না। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু অনুমোদিত ১৪টি বিষয়ের মধ্যে পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ ছিল, তাই এটি স্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সুশাসনের বড় ঘাটতি হিসেবে স্পষ্ট।’
তিনি আরও বলেন, ‘করপোরেট সুশাসনের এমন ঘাটতির কারণেই আজ অনেক ব্যাংকের এমন দুরবস্থা।’
সেদিন সকালে ডিজিএফআই তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণে কোনো পরিচালকই বোর্ড সভার জন্য যথাযথ পোশাকে ছিলেন না। তারা বাড়িতে পরার মতো সাধারণ পোশাকেই ছিলেন। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের জন্য যথাযথ মাপের স্যুট, শার্ট, টাই, বেল্ট, মোজা ও জুতা হাজির করা হয়েছিল। বোর্ড সভায় যোগ দিতে ওয়েস্টিনে নেওয়ার আগে প্রত্যেক পরিচালককেই ফরমাল পোশাক পরানো হয়।
সেই বোর্ড সভা শেষে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাদের ভয় কাটেনি। পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে আব্দুর রহমানসহ সাতজন পরিচালক একসঙ্গে পদত্যাগ করেন।
আব্দুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওই সভার পর আমাদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়, পদত্যাগ না করলে খারাপ হবে। ভয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে পদত্যাগ করি।’
ওয়েস্টিনের এক সূত্র টেলিফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, বোর্ড সভার জন্য হোটেলের ওই কক্ষ বুক করেছিল গোয়েন্দা সংস্থাই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তড়িঘড়ি অনুমোদন
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও এই জোরপূর্বক ব্যাংক দখলের ঘটনার বৈধতা দিতে বাড়তি তৎপরতা দেখিয়েছে। এসআইবিএল বোর্ড সচিবালয়ের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান গোয়েন্দা কার্যালয়ে হওয়া নতুন নিয়োগের অনুমোদন নিতে। তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সচিব জেকিউএম হাবিবুল্লাহ ও ডিজিএফআইয়ের দুই কর্মকর্তা।
তৎকালীন গভর্নর ফজলে কবির অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠকে ছিলেন। আব্দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা গভর্নরের ব্যক্তিগত সচিবকে বলেন, ‘গভর্নরকে ফোন করে বলুন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এসেছি।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই গভর্নর সেখানে চলে আসেন।
স্বাভাবিক নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এসব নিয়োগ যাচাই করে। তারা সিআইবি প্রতিবেদন, চলমান মামলা ও কোনো অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করতে নূন্যতম এক সপ্তাহ সময় নেয়। অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে রাত ৯টার মধ্যে এসআইবিএলের নতুন চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
দ্য ডেইলি স্টার এর মধ্যে দুটি অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করেছে। তার একটিতে আনোয়ারুল আজিম আরিফকে চেয়ারম্যান এবং অন্যটিতে বেলাল আহমেদকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সেদিন রাতে আবু ফারাহ মো. নাসেরের নেতৃত্বে বিআরপিডির একটি দল নিয়মিত অফিস সময়ের পরও থেকে যান এবং এই পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আবু ফারাহ মো. নাসের পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও উপদেষ্টা হন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি পদত্যাগ করেন।
যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
সাবেক গভর্নর ফজলে কবির লিখিত জবাবে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে আমি সবসময় চেষ্টা করেছি একই দিনে ফাইল নিষ্পত্তি করতে। মাগরিবের নামাজের পর ফাইল দেখা শুরু করতাম এবং রাত ৮টা বা ৯টার দিকে অফিস থেকে বের হতাম।’
তিনি বলেন, ‘দিনের অন্যান্য ফাইলের সঙ্গে এটি আমার টেবিলে আসার আগে এসআইবিএলের নতুন পরিচালক ও এমডির অনুমোদন সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না।’
পরিস্থিতি তৈরি
২০১৭ সালের শুরু থেকেই দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ইউনাইটেড গ্রুপ এসআইবিএল ব্যাংকের শেয়ার কেনা শুরু করে। আট মাসের মধ্যে ১৩টি কোম্পানির মাধ্যমে তারা ব্যাংকটির ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়।
এটি ছিল ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪(ক)(১) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মালিকানা ১০ শতাংশের বেশি হবে না।
এসআইবিএলের তৎকালীন কোম্পানি সচিব হুমায়ুন কবির আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানান। ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউনাইটেড গ্রুপের আগ্রাসী শেয়ার কেনা নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়।
পরবর্তীতে আইনি জটিলতার কারণে গ্রুপটি সরে যায় এবং তাদের কেনা শেয়ার ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের কাছে বিক্রি করা হয়। এই ঘটনা পুঁজিবাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ব্লক মার্কেট লেনদেন হলো বড় পরিসরে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, যা নিয়মিত বাজারের বাইরে করা হয়। এই পদ্ধতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা আগেই মূল্য, পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ করে নেন, যাতে শেয়ারবাজারে দরের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব না পড়ে।
শেয়ারবাজারের তথ্য অনুযায়ী, এসআইবিএলের স্পনসর পরিচালকরা শেয়ার বিক্রির কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা না দিলেও ব্লক মার্কেটে লেনদেন বেড়ে যায়। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ১২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪ টাকায় পৌঁছে যায়।
ইউনাইটেড গ্রুপের পাশাপাশি এস আলম গ্রুপ ১৪টি নতুন গঠিত কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রায় ৩৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। বিষয়টি সেই সময় জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে উঠে আসে। মালিকানা সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, এই ১৪টি কোম্পানিই এস আলম, তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শুরুতে এসব কোম্পানির নিবন্ধিত ঠিকানা ছিল ঢাকার দিলকুশা আল-আমিন সেন্টার এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জে এস আলম ভবন। পরে সব ঠিকানাই চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই ঠিকানাগুলোতে কোনো কার্যকর কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরাও সেখানে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কথা বলতে পারেননি।

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে এসআইবিএল
রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে জবরদস্তি দখলের পরপরই এসআইবিএলের বোর্ড ধীরে ধীরে পুনর্গঠন করা হয় এস আলমের অনুগতদের দিয়ে। চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ ও ভাইস চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবে এস আলমের ছেলে আরশাদুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের বোর্ডে গ্রুপটির প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়।
তবে একটি নিয়োগ বিশেষভাবে নজরে পড়ে—জেবুন্নেসা আকবর। তিনি ইউনিটেক্স সিমেন্টের মালিক না হয়েও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে যোগ দেন। তাকে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটিতেও রাখা হয়। বড় ঋণ অনুমোদন, নীতিনির্ধারণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শক্তিশালী কমিটি ছিল সেটি।
২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবরের স্ত্রী এই জেবুন্নেসা আকবর। ২০১৮ সালের মে মাসে ব্যাংকটি দখলের কয়েক মাস পরই ফজলে আকবরকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। স্যালারি স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, এই সময়ে তিনি বেতন ও সুবিধা বাবদ ২ কোটি টাকার বেশি পেয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে জেবুন্নেসা আকবর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছি। দুঃখিত, আমি কথা বলতে পারব না। আর, কোনো ব্যাংক দখলে আমার স্বামীর কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি ২০১১ সালের জুন পর্যন্তই গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করেছেন।’
কীভাবে লাভবান হন এস আলম
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদভিত্তিক ইনফিনিয়া স্পিনিং মিলস লিমিটেড ইনফিনিয়া গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। এর চেয়ারম্যান এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম। এস আলমের ভাতিজা মো. মোস্তাইন বিল্লাহ আদিল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
এস আলম গ্রুপ এসআইবিএল দখল করার তিন মাসের মধ্যেই মাত্র ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রতিষ্ঠান ইনফিনিয়া স্পিনিং মিলস ব্যাংকটি থেকে ৩৩১ কোটি টাকা ঋণ ও ১২৭ কোটি টাকার এলসি সুবিধা পায়। নথি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া দায় ৮১৫ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ রয়েছে।
ইনফিনিয়া তো কেবলমাত্র একটি উদাহরণ।
ঋণ ও শেয়ার কেনার নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৬ জন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক ২০১৭ সালে ১৪টি কোম্পানির মাধ্যমে এসআইবিএলের ৩৭ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই পরিচালক ও আন্তঃমালিকানার মাধ্যমে যুক্ত ৩৩টি কোম্পানির মাধ্যমে তারা ৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেয়।
ঋণ বিতরণের এই ধরণ থেকে বোঝা যায়, কীভাবে এসআইবিএলের বড় অংশের সম্পদ একটি পরিবার ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের হাতে চলে গেছে। এটাই প্রমাণ করে, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে।
এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে ছিলেন সাতজন, যারা একইসঙ্গে শেয়ার অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ঋণগ্রহীতা কোম্পানিগুলোর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম, তার দুই ভাই ও স্ত্রী।
চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বারবার কল কেটে দিয়েছেন। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়ও তিনি সাড়া দেননি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্য ডেইলি স্টার তার চট্টগ্রামের ১০০/১২২ আব্দুল লতিফ রোডের বাসায় গিয়েও দেখা করার চেষ্টা করে। বাসার গেটে দারোয়ান বলেন, ‘স্যার বাসায় নেই।’ অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ (৭৫) চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া বেলাল আহমেদ বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ এবং আমাদের ম্যাসেজেরও জবাব দেননি।
এমডি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী ওসমান আলী টেলিফোনে কেবল বলেন, ‘আমি অসুস্থ।’ তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সেদিন যাদের ডিজিএফআইয়ের কচুক্ষেত কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তারা বলেন, সেদিনের সবকিছু একজনকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছিল, আর তিনি হলেন এস আলম। ২০০৯-২০২৪ সময়কালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খাতিরে ভীতিকর এক চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন এই এস আলম।
তুলে নেওয়া ব্যক্তিরা এস আলমকেই ‘মূল খেলোয়াড়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের ভাষ্য, গোয়েন্দা কার্যালয়ের ভেতরে বসে পুরো দখল প্রক্রিয়া এস আলম এমনভাবে পরিচালনা করছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন তিনি ওই সংস্থারই একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ওয়েস্টিনে যাওয়ার আগে এস আলম আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, মিডিয়ার কাছে যেন কিছু না বলি এবং তার সব কাজে যেন সহযোগিতা করি। ওই সময় একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমার হাত নিয়ে তার কোমরের পিস্তলের ওপর রাখেন।’
ধারণা করা হয়, সিঙ্গাপুরের নাগরিক এস আলম বর্তমানে সেই দেশেই অবস্থান করছেন। তিনি আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ কল ও ম্যাসেজের জবাব দেননি। তার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনজীবীরাও ইমেইলে পাঠানো আমাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
ব্যাংক দখলের পুরো এই ঘটনাটিকে ‘বিরল’ হিসেবে বর্ণনা করে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে, একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী অন্য একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। কিন্তু একটি ব্যাংক জোরপূর্বক দখল করার জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা সংস্থাকে জড়ানো অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক।’
‘এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এ ধরনের কাজে জড়াতে না পারে’, যোগ করেন তিনি।