Image description

ফিলিস্তিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার (১১ এপ্রিল) সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়। খবর আল জাজিরার।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সরকার এই পদক্ষেপে বাধা দিচ্ছিল। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাধা কেটে গেছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিনজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও চারটি বসতি স্থাপনকারী সংগঠন রয়েছে। যদিও এখনও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কলাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, অচলাবস্থা থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার এখনই সময়।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, পশ্চিম তীরে সহিংস ও উগ্র উপনিবেশ স্থাপনকে সমর্থন দেওয়া প্রধান ইসরায়েলি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত।

তবে ইসরায়েল এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার বলেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোনো ভিত্তি ছাড়াই ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিম তীরে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অধিকার রয়েছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ হবে না।

অন্যদিকে হামাসের নেতাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার কারণে তাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, হামাসের যেসব নেতা ওই হামলার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এই সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে তাদের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।

তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম ইইউর এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আত্মরক্ষাকারী ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী একটি রাষ্ট্রকে একইভাবে দেখানো হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, পূর্ব জেরুজালেম বাদে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছেন। সেখানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি রয়েছেন।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইইউ এখনো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো বড় পদক্ষেপে একমত হতে পারেনি। তবে পশ্চিম তীরের বসতিগুলো থেকে আসা পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।