Image description

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জবাবে যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই থামানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আলোচনায় এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কবে বা কীভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল, আগে যুদ্ধ বন্ধ করা, এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

ইরানের জবাবের আগেই অবশ্য রয়টার্স জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। কাতারএনার্জি পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল খারাইতিয়াত নিরাপদে প্রণালি পেরিয়ে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রথম কাতারি এলএনজি জাহাজ বলে জানিয়েছে শিপিং অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপলার

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবেই জাহাজটির চলাচল অনুমোদন করেছে ইরান। গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে যে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছিল, তাতে এই জাহাজের যাত্রা ইসলামাবাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।

এ ছাড়া ব্রাজিলগামী পানামা-পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেও অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার তুলনামূলক শান্তির পর রোববার কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতার তাদের জলসীমায় আবুধাবি থেকে আসা একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতও বলেছে, তাদের আকাশসীমায় ঢোকা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনের বিরুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।