সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর কাছে দর্শকশ্রোতাদের কাছ থেকে একটি প্রশ্ন আসে।
প্রশ্নটি হলো, চরিত্র রক্ষার জন্য বিয়ে করা কি ইসলামি আকিদার সাথে যায়? বর্তমান বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। দয়া করে এ বিষয়ে কিছু কথা বলবেন।
উত্তরে আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, প্রিয় ভাইয়েরা! প্রথম বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে একটা বিষয় সবসময় মনে রাখতে হবে। শুধু দ্বিতীয় নয়- দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, আল্লাহ পুরুষের জন্য যেটা বৈধ করেছেন, এই বিয়ে সুন্নত-ওয়াজিব নয়। এটা আপনার জন্য কোনো উৎসাহব্যঞ্জক আমল নয়। এটা আপনাদের প্রাইম টাস্ক মনে রাখতে হবে।
দ্বিতীয় কথা হলো, চরিত্র রক্ষার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে- এই টার্ম, এই কথাটাই হচ্ছে ইসলামের সাথে একটা সাংঘর্ষিক কথা এবং ইসলামকে উপহাসের পাত্র বানানোর কথা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে বিধান দিয়েছেন- বিয়ে করো, বিয়ে যদি করতে না পারো ধৈর্য ধরো, ধৈর্য ধরার ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোজা রাখার বিধান দিয়েছেন। বিবাহ বহির্ভূত অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তির চরিত্র হেফাজতের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই বিধান দিয়েছেন। আর আপনার একজন স্ত্রী আছে, এক স্ত্রী থাকা অবস্থাতে আপনি আবার কী দুশ্চরিত্র হচ্ছেন যে, যেই কারণে আপনাকে আবার বিয়ে করতে হচ্ছে? মানে আপনার এই চরিত্রের লেভেলটা কী? আপনি এই মাত্রাটা দ্বারা কী বুঝাতে চাচ্ছেন?
তিন নম্বর কথা যেটা, সেটা হচ্ছে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনুল কারিমের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম টার্ম ব্যবহার করেছেন। খুব ভয়ঙ্কর কথা। আল্লাহ বলছেন, ‘ফানকিহু মা ত্ববা লাকুম মিনান নিসায়ি মাছনা ওয়া ছুলাছা ওয়া রুবা, ফাইন খিফতুম আল্লা তাদিলু ফাওয়াহিদাহ।’ (সুরা নিসা ৩)
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলছেন ‘ফাওয়াহিদাহ’। আল্লাহ বলছেন তোমার জন্য বৈধতা দিলাম দুই, তিন, চার। কিন্তু তুমি যদি আদালত (ইনসাফ) কায়েম করতে না পারো তাহলে একের উপরেই তোমার থাকতে হবে।
মুহাদ্দিসিনে কেরাম, মুফাসসিরিনে কেরাম এটার ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেছেন, এই যে আদালত, এই যে ইনসাফ এটা কিসের উপরে হবে? তিনটা জিনিসের উপরে হবে। ভরণপোষণ, সময় ও ভালোবাসার সমতা। অর্থাৎ ন্যায়বিচার করতে হবে। আপনি যদি এগুলো ব্যালেন্স করতে না পারেন তাহলে আপনার জন্য এই বিয়ে করা হারাম হয়ে যাবে।
এখন আমরা শুনতে পাই উন্মাদের মতো কথাবার্তা। এক বিয়ে কম তাকওয়া, দুই বিয়ে ডাবল তাকওয়া, তিন বিয়ে তিন তাকওয়া। কোথা থেকে পেয়েছেন এটা? ইসলামের বিধান নিয়ে কথা বলার সময় আপনাকে হুঁশজ্ঞান করে কথা বলতে হবে।
হ্যাঁ, ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ। এটা নিয়ে যদি কেউ কথা বলে তাহলে তার ইমান চলে যাবে। আল্লাহ যা হালাল করেছেন আপনি হারাম করতে পারবেন না। কিন্তু আল্লাহ যেভাবে বলেছেন আপনাকে তার উপরে অবস্থান থাকতে হবে। আপনি এটাকে এখানে তামাশা বানাতে পারবেন না। ফাজলামি বানাতে পারবেন না।