Image description

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম বলেছেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে যদি অভ্যুত্থান বা বিপ্লব ধরি, তাহলে এর পাল্টা একটি শক্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। প্রতিবিপ্লবও হতে পারত। আমি আশঙ্কা করেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করে ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদ আসতে পারে।

 

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের আলাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সাহেদ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটেছে, সেখানে শেখ হাসিনা নিজেই সংঘাতের পথ তৈরি করেছেন। আমি আশঙ্কা করছিলাম, এই পাল্টা শক্তি ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠবে। মুক্তিযুদ্ধের নামে ফ্যাসিবাদ দূর করতে ১৭ বছর সময় লেগেছে। ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদ এলে সেটি হয়তো ১০০ বছরেও সরানো যাবে না। যদি নারায়ে তাকবির বলে কেউ আঘাত করে, তখন দুদিন পরই এর প্রতিবাদ করার মানুষ পাওয়া যাবে না, কারণ সেটি ধর্মযুদ্ধে রূপ নেবে।

 

তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর জন্য লড়াই করিনি, আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর জন্য লড়েছি। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য লড়েছি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ধ্বংসাত্মক ধারণা দিচ্ছে— ভেঙে ফেলো, পুড়িয়ে ফেলো, মেরে ফেলো। আমি চেয়েছি রাষ্ট্র সেক্যুলার থাকুক, যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, বাউল, মৌলভী সবার সমান অধিকার থাকবে।

 

সাহেদ আলম আরও বলেন, নারী যেন সম্মানের সঙ্গে বুক উঁচু করে রাস্তায় হাঁটতে পারে। তার পোশাক যেন তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। যে ধর্ম পালন করবে, সে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। যে বাউল গান শুনবে, সে শুনবে। যে মসজিদে যাবে, নামাজ পড়বে, তাকেও সম্মান করা হবে। যে গাছতলায় বসে ধ্যান করবে, তাকেও সম্মান করতে হবে। কারণ মূল বিষয় স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ। আমি কোন পথে গেলাম আর আপনি কোন পথে গেলেন, সেটি নিয়ে একে অপরের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মধ্যেই বিভেদ তৈরি হয়।