শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেছেন, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব কমানো জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি ক্ষমতার পদে বসে আছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মিডিয়া বাজারে 'সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা' শীর্ষক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মাহমুদা মিতু শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ডা. মিতু বলেন, তিনি নিজেকে জনগণ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে মনে করেন। জনগণের সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরাই তার দায়িত্ব। তিনি শিক্ষা খাতকে দুইভাবে দেখার কথা বলেন-প্রথমত দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা এবং দ্বিতীয়ত শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা। তার মতে,দুর্নীতি বন্ধ না করলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়।
তিনি গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থার একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, যে স্কুল থেকে তিনি বৃত্তি পেয়েছিলেন, সেই স্কুলে এখনো কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। এমনকি স্কুলের ফ্যান চুরি হওয়ার ভয়ে শিক্ষকরা প্রতিদিন খুলে নিয়ে যান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের নীতিমালা আদৌ এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যাগুলো পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই কেন্দ্রীয় নেত্রী বলেন, তরুণ নেতৃত্বদের এমন নীতিগত আলোচনা থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এসব অভিজ্ঞতা সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। তিনি শিক্ষা খাতে দুর্নীতি কোথায় কোথায় হচ্ছে, তা নিয়ে আলাদা নীতিগত আলোচনা হওয়ার প্রস্তাব দেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সব শিশু গান, নাচ বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী হবে না। কেউ আবৃত্তি, বক্তৃতা বা অন্য কোনো বিষয়ে দক্ষ হতে পারে। আবার কিছু পরিবারের ধর্মীয় সীমাবদ্ধতাও থাকতে পারে। তাই সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।
এছাড়া তিনি অবহেলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি তার আস্থা রয়েছে বলেই তিনি নিজের সন্তানদের দেশীয় কারিকুলামে পড়াচ্ছেন এবং দেশের মধ্যেই ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।