Image description
বাজারে উঠছে মৌসুমি ফল

রাজধানীর বাজারে গ্রীষ্মকালীন ফল আম, লিচু ও কাঁঠাল উঠতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকায় এসব ফলের দাম এখন আকাশছোঁয়া। বাজারে গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, গুটি, কাটিমন, বৃন্দাবনীসহ বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। জাত ও আকারভেদে পাইকারিতে প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়, কিন্তু খুচরা বাজারে একই আম কিনতে গুনতে হচ্ছে  ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। অন্যদিকে লিচু খুচরা বাজারে প্রতি ১০০টি ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর উত্তরা, কারওয়ান বাজার, বাদামতলী, বাড্ডা, খিলক্ষেত, রামপুরা, ভাটারা ও বনানীতে সরেজমিন দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে দাম তুলনামূলক কম হলেও খুচরা পর্যায়ে বিক্রেতারা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। পাইকারিতে ১ হাজার লিচু ১৯০০-২৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরায় প্রতি ১০০টি কিনতে খরচ হচ্ছে ১৯০-২৫০ টাকার বেশি। এদিকে বাজারে কাঁঠাল উঠতে শুরু করলেও সরবরাহ এখনো খুবই সীমিত। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে আসা অধিকাংশ আমই সাতক্ষীরার। লিচু গাজীপুর, যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের। মৌসুমের শুরু হওয়ায় সরবরাহ কম, ফলে দাম বেশি। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফল আসতে শুরু করলে দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উত্তরার একটি ফলের আড়তের ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘মৌসুমের শুরু ও শেষ এ দুই সময়েই ফলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক হবে।’ ক্রেতাদের অভিযোগ, বেশি দামের পাশাপাশি ফলের স্বাদও এখনো তেমন ভালো নয়। অপরিপক্ব অবস্থায় বাজারজাত করায় আম-লিচুতে প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।’

উত্তরার বাসিন্দা সুমন খন্দকার বলেন, ‘গত বছর যে আম ১০০-১২০ টাকায় কিনেছি, এবার তা ১৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে সব জাতের আম বাজারে এলে দাম কমবে আশা করি।’

লিচু বিক্রেতা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, সোনারগাঁয়ের কদমি লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, ফলে এর দামও বেশি। প্রতি ১০০ কদমি লিচু ৭০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরার বাসিন্দা আল আমিন মিয়া ৭৫০ টাকায় ১০০ কদমি লিচু কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘দাম বেশি হলেও ভালো মানের লিচু পেতে বেশি দাম দিয়েই কিনতে হয়েছে।’