বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনীতিতে। ভারত, পাকিস্তান ও চীন- প্রতিবেশী হিসেবে প্রভাবশালী এই তিন দেশেই সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট দেশ ভুটানে প্রথম বিদেশ সফরে যেতে পারেন তিনি। আর সেটা হতে পারে আগামী মাসেই। এরপর চীন এবং ভারত সফরেও যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের তালিকায় থাকা প্রথম দেশের নাম জানা নিয়ে আগ্রহ অনেকেরই। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কার্যালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার কাছে। নাম প্রকাশে অনাগ্রহী ওই কর্মকর্তা মোটাদাগে দিয়েছেন ধারণা। আগামীর সময়কে বললেন, ‘সার্কভুক্ত দেশ দিয়ে প্রথম বিদেশ সফর শুরু করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেই দেশটি হতে পারে ভুটান। আর ঈদুল আজহার পর জুনে হতে পারে সেই সফর। তারপর পর্যায়ক্রমে চায়না (চীন), ইন্ডিয়া (ভারত), জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বন্ধুভাবাপন্ন দেশ যেমন-—চীন ও ভারতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়, ওই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে সফরসূচি সাজানোর কাজ চলছে।
তিনি যোগ করলেন, ‘আগামী জুনে ভারত বা চীন সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তার চীন সফর নিয়ে কাজ চলছে।’ গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গতকাল গিয়েছেন চীন সফরে। ৭ মে পর্যন্ত দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থান করার কথা রয়েছে তার। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ্মায় বললেন, ‘আমি চীন যাচ্ছি। সেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার রয়েছে।’
ভুটান ১৯৮৫ সালে যাত্রা শুরু করা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্যভুক্ত আটটি দেশের একটি। প্রধানমন্ত্রীর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিবেচনা করা হয় এই আঞ্চলিক জোটের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে।
জানা গেছে, ভুটান সফরের মধ্য দিয়ে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারই নয়, বরং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত ও কার্যকরের প্রতীকী বার্তাও দিতে চান তারেক রহমান।
সার্কের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিতে চান বহুপক্ষীয় আরেকটি আঞ্চলিক জোট বিমসটেককে। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে গঠিত, যার লক্ষ্য প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।