Image description
মাঠে বিএনপির, জামায়াত ও এনসিপির একাধিক প্রার্থী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। এ নির্বাচন ঘিরে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইন সংশোধন হওয়ায় এবার দলীয় প্রতীকে ভোট না হলেও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারাই এ নির্বাচনে অংশ নেবেন। ফলে বিএনপি, জামায়াত এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক এনসিপির নেতারা নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি ঘরানার সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অনেকে স্থানেই দলটির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকবেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তাদের জন্য ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে গণ্য করছে। দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে তারা। পাশাপাশি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে সারা দেশের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনি প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে জাতীয় সংসদে যেমন বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির লড়াই হচ্ছে, অনুরূপভাবে স্থানীয় নির্বাচনেও ভোটের মাঠে তাদের লড়াই হতে পারে। জামায়াত ও এনসিপি চায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত স্থানে স্থানে তাদের প্রতিনিধিকে বিজয়ী করতে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাস্টার প্ল্যানের ভিত্তি এখান থেকেই রচনা করতে চায়।

জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে বিএনপির দলীয় প্রতিনিধি বসানো হলে এ নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি নির্বাচনের আওয়াজ তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কোনো কোনো দল বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের জন্য দলীয় প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে। তৃণমূল পর্যায়েও কাজ শুরু করেছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চান স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

জবাবে মন্ত্রী জানান, এই নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মাঠে বিএনপির একাধিক প্রার্থী : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এবার বিএনপির নজর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে সয়লাব হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অলিগলি ও জনসমাগমস্থল। নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তারা। ভোটারদের মনোযোগ টানতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জোর দিচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

বিএনপি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাদের আলোচনা সাপেক্ষে উপযুক্ত সময় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দলীয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে নেতা-কর্মী ভোটের মাঠে নামবে। সরকারের কার্যক্রমের সফলতায় জাতীয় নির্বাচনের সাফল্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পড়বে বলে মনে করেন বিএনপির এ সিনিয়র নেতা।

একক প্রার্থী নিশ্চিত করছে জামায়াত ও এনসিপি : দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কৌশল হিসেবে আপাতত এককভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত ইসলামী ও এনসিপি। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই দুই দলের পক্ষ থেকে অধিকাংশ স্থানেই একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হতে পারে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজস্ব শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এরই মধ্যে সারা দেশের দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনি প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং দলীয় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, আমরা সারা দেশে পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি রয়েছে। এখন সেটিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সবখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব হয়।

জোট প্রসঙ্গে জামায়াত নেতারা জানান, অন্য দলগুলো এরই মধ্যে নিজস্ব প্রার্থীর নাম ঘোষণা শুরু করেছে। তাই জামায়াতও আর জোটের অপেক্ষায় না থেকে এককভাবে মাঠ গোছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্র থেকে প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেওয়া হলে পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকেই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারে নামবেন। তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে এককভাবে জামায়াত পায় ৬৮টি আসন। জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হার এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায় দলটি।

অন্যতম নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা আমাদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। সংশোধিত আইনের আলোকে বিধি পরিবর্তন হবে। সেগুলো নিয়ে ইসির সংশ্লিষ্ট শাখায় কাজ চলছে। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাসম্ভব সময়ে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী কমিশন সভায় এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।